ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

সংবিধান সংস্কার পরিষদ না করা রাজনৈতিক প্রতারণার নতুন দৃষ্টান্ত: রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

সংবিধান সংস্কার পরিষদ না করা রাজনৈতিক প্রতারণার নতুন দৃষ্টান্ত: রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

বাংলাদেশে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন অভিযোগ করেছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পরিবর্তে প্রচলিত সাংবিধানিক সংশোধনীর পথে এগিয়ে গিয়ে সরকার জনগণের প্রত্যাশা ও পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। দলটির ভাষায়, এটি রাজনৈতিক প্রতারণার একটি নতুন দৃষ্টান্ত।

মঙ্গলবার দলটির সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ অভিযোগ করা হয়। বিবৃতিতে সরকারের এই পদক্ষেপের প্রতি ক্ষোভ ও নিন্দা জানানো হয়।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা বলেন, গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী গণভোট দেশে মৌলিক সংবিধান সংস্কারের পক্ষে একটি সুস্পষ্ট জনমত তৈরি করেছিল। তাদের দাবি, সেই জনআকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে একটি পৃথক সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংস্কার প্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার এখন প্রচলিত সাংবিধানিক সংশোধনীর পথ বেছে নিয়েছে, যা জনগণের ম্যান্ডেটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনসংক্রান্ত নানা অনিয়মের নজির থাকলেও গণ-অভ্যুত্থান ও গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনমত বাস্তবায়নে অস্বীকৃতির এমন ঘটনা নজিরবিহীন। এটি দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনআস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও মন্তব্য করে দলটি।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অভিযোগ, সরকার তার পূর্ব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন থেকে সরে এসেছে। এমনকি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কেউ কেউ সংসদে দেওয়া বক্তব্যে সংস্কারসংক্রান্ত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলেও দাবি করা হয় বিবৃতিতে। দলটির মতে, এ ধরনের বক্তব্য গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য উদ্বেগজনক এবং তা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংসদে সরকারি দলের কিছু বক্তব্য বর্তমান সংসদের রাজনৈতিক বৈধতা সম্পর্কেও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। একই সঙ্গে এসব বক্তব্য অতীতে পরাজিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোর দাবিকে পরোক্ষভাবে শক্তিশালী করতে পারে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে। দলটির ভাষ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, গণভোটের ম্যান্ডেট এবং নির্ধারিত ১৮০ দিনের সময়সীমার বাধ্যবাধকতা মেনে এই প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।

অন্যথায়, ভবিষ্যতে দেশে কোনো দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হলে তার দায় সরকারের ওপরই বর্তাবে বলে সতর্ক করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।