বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে কোনো সরকারের আমলেই গণমাধ্যম পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেনি, তবে বিএনপির শাসনকালে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। রোববার রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মতিউর রহমান উল্লেখ করেন, বিগত ৫০ বছরের ইতিহাসে সংবাদপত্র শিল্পের জন্য সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল গত ১৫ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে সংবাদমাধ্যমকে প্রচণ্ড নিপীড়ন, চাপ এবং ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভয়ংকর রূপ নিয়েছিল। এমনকি প্রথম আলোর মালিকানা বা সম্পাদক বদলে দেওয়ার মতো শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল বলে তিনি জানান।
বিএনপির ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের শাসনকাল নিয়ে স্মৃতিচারণ করে মতিউর রহমান বলেন, সেই সময়ে সরকারের নানা ভুলত্রুটি নিয়ে তারা কঠোরভাবে লিখেছেন। সেই সব লেখা নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিতর্ক ও আলোচনা হলেও কখনো প্রকাশ্যে আক্রমণ বা জেল-মামলার ভয় ছিল না। বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যে সমালোচনা সহ্য করার মতো ধৈর্য ছিল উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারা আরও বেশি সহনশীলতার পরিচয় দেবে। তবে বর্তমানে বিএনপি যে প্রার্থী তালিকা তৈরি করেছে, তা নিয়ে জনমনে বিশেষ কোনো উৎসাহ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন এবং এ বিষয়ে দলটিকে পুনরায় ভেবে দেখার পরামর্শ দেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে একটি বিপজ্জনক শূন্যতা হিসেবে অভিহিত করে প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, তারেক রহমান যদি আরও আগে দেশে ফিরতে পারতেন তবে সেটি দেশের জন্য আরও ইতিবাচক হতে পারত। দেশে চলমান মবতন্ত্র এবং যুক্তিতর্কের বাইরের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগামী দুই মাস দেশের পরিস্থিতি কেমন যাবে তা নিয়ে এখন জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের ওপর সাম্প্রতিক হামলার সময় সব পক্ষের সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি একে গণতন্ত্রের জন্য ভালো লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
পরিশেষে মতিউর রহমান জোর দিয়ে বলেন, আগামী দিনে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাদের জন্য সময়টা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন। দেশের বর্তমান বিভেদ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য এবং সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি মনে করেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তনই দেশের সব সমস্যার একমাত্র সমাধান। বৈরী পরিবেশ কাটিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।