সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দেশজুড়ে চলমান শোকের আবহের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, দলীয় প্রধানের মৃত্যুতে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তাকে শক্তিতে রূপান্তর করে তারা দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ভোটের মাঠে সক্রিয় হতে চান। সাত দিনের শোক কর্মসূচি এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরপরই প্রার্থীরা পূর্ণদমে প্রচারণায় নামবেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, কেন্দ্রীয়ভাবে এখন সবার দৃষ্টি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিকে। বিশেষ করে দলীয় প্রার্থী এবং মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে যাতে কোনো অভ্যন্তরীণ জটিলতা না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। দলের ইশতেহার চূড়ান্ত করা এবং প্রচারণার কৌশল নির্ধারণের কাজও এখন শেষ পর্যায়ে। দলীয় প্রধানের মৃত্যুতে সাধারণ মানুষের যে উপচে পড়া সহানুভূতি ও ভালোবাসা দেখা গেছে, সেটিকে ইতিবাচক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে চায় দলটি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা বিএনপিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী করবে। তার মতে, দেশ ও মাটির প্রতি নেত্রীর যে অঙ্গীকার ছিল, তা সাধারণ মানুষকে আলোড়িত করেছে। তিনি আজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন এবং চরম অসুস্থতা সত্ত্বেও দেশ ছেড়ে যাননি। মির্জা ফখরুল প্রত্যাশা করেন, আগামী নির্বাচনে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিশ্বাসী শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করবে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বেই গণতন্ত্র সুসংহত হবে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বেগম জিয়ার মৃত্যুশোককে তারা কেবল আবেগ দিয়ে নয়, বরং জাতি বিনির্মাণের শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম জিয়া এখন কোনো নির্দিষ্ট দলের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নন, তিনি বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রকামী মানুষের নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তার জানাজায় মানুষের বিশাল অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে বিএনপির ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, চেয়ারপারসনের মৃত্যুর কারণে আইনিভাবেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাবে এবং সেসব আসনে দলের বিকল্প প্রার্থীরা লড়াই করবেন।
পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একা হয়ে পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারেক রহমান এখন দেশের মানুষের কাছে একটি আমানত। যত বড় শোকই আসুক না কেন, জাতির বৃহত্তর প্রয়োজনে তাকে শক্ত মনোবলের অধিকারী হতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলটিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং আসন্ন নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করাই হবে তারেক রহমানের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।