নতুন বছর ২০২৬ সালে পা রেখেই ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘদিনের মসৃণ সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপড়েনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যদিও আদালতের বর্তমান ৬-৩ ব্যবধানের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা গত বছর জুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে একাধিক রায় দিয়েছে, তবে এবার বেশ কিছু সংবেদনশীল ইস্যুতে চূড়ান্ত ফয়সালা আসতে যাচ্ছে যা হোয়াইট হাউসের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
চলতি বছর আদালত ট্রাম্পের তিনটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার ওপর রায় দেবে। এর মধ্যে রয়েছে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তাব, বিশাল অংকের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত এবং ফেডারেল রিজার্ভের বোর্ড অব গভর্নরস থেকে একজন সদস্যকে বরখাস্ত করার প্রচেষ্টা। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালত চাইলেই এই বিষয়গুলোতে আরও আগে সিদ্ধান্ত নিতে পারত। কিন্তু মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি দীর্ঘ ইতিহাস হলো, তারা সাধারণত একজন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়া বা নির্বাচনের পরবর্তী প্রাথমিক দাপট কমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে বড় কোনো আইনি ধাক্কা দেওয়ার জন্য।
নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল’র অধ্যাপক রিচার্ড পিল্ডেস মনে করেন, আদালত এই বসন্তের আগে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছে না। কারণ নির্বাচনের পরপরই ট্রাম্পের যে রাজনৈতিক শক্তি ছিল, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। জনমত জরিপগুলো বলছে, ২০২৫ সাল জুড়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে। এনবিসি নিউজের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৪২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যেখানে ৫৮ শতাংশই তার কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ট্রুম্যান, নিক্সন কিংবা ওবামার মতো জনপ্রিয় প্রেসিডেন্টরাও তাদের মেয়াদের শেষ দিকে বা জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার সময় আদালতের কাছ থেকে বড় ধরনের পরাজয় বরণ করেছেন। ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম না হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের মতো বিষয়ে নিম্ন আদালতগুলো আগে থেকেই একে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর পরিপন্থী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এই সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে রায় দিতে বিলম্ব করায় ধারণা করা হচ্ছে যে, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
আদালত এই মামলাগুলোতে সময়ক্ষেপণ করার মাধ্যমে নিজের কর্তৃত্ব ও জনমানসে গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখার কৌশল নিয়েছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। এখন দেখার বিষয় হলো, আগামী জুনের মধ্যে যখন চূড়ান্ত রায়গুলো আসবে, তখন হোয়াইট হাউস ও বিচার বিভাগের মধ্যকার এই দূরত্ব কতটা প্রকট হয়। ট্রাম্প নিম্ন আদালতের বিচারকদের সমালোচনা করলেও সুপ্রিম কোর্টের ব্যাপারে এ পর্যন্ত নমনীয় ছিলেন, কিন্তু আসন্ন বড় কোনো হার সেই ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটাতে পারে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।