ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:২০ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি নিলে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি নিলে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ‘পুনঃভর্তি ফি’ আদায় করে, তবে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

পুনঃভর্তি ফি নিয়ে কঠোর অবস্থান

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “একই বিদ্যালয়ে এক শ্রেণি থেকে অন্য শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি বছর নতুন করে ভর্তি ফি নেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। আদালতের সুস্পষ্ট আদেশ রয়েছে যে, প্রতি বছর ভর্তি ফি নেওয়া যাবে না। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান ভিন্ন কোনো উপায়ে বা কৌশলে এই ফি আদায়ের চেষ্টা করে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।”

উল্লেখ্য, অনেক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেশন চার্জের আড়ালে মোটা অংকের পুনঃভর্তি ফি আদায় করে আসছিল, যা নিয়ে দীর্ঘদিনের জনঅসন্তোষ রয়েছে। মন্ত্রীর এই বক্তব্য সেই অনৈতিক চর্চার লাগাম টানবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আর্থিক স্বচ্ছতা ও নতুন নীতিমালা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম রোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা, ২০২৬’ প্রকাশ করেছে। এই নীতিমালার আলোকে মন্ত্রী জানান:

কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায় করা যাবে না।

প্রতিষ্ঠানের সকল আয়-ব্যয় সরকারি মনিটরিংয়ের আওতায় থাকবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও টিউশন ফি নির্ধারণে সরকারি নির্দেশিকা মানতে হবে।

এমপিও ও সাত কলেজ প্রসঙ্গ

এমপিওভুক্তি (MPO) নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ইতিপূর্বে তড়িঘড়ি করে যে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে, তা নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। যোগ্য প্রতিষ্ঠান যেন বঞ্চিত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা হবে।

অন্যদিকে, রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের চলমান সংকট নিয়ে তিনি বলেন, “আমি এখনো সাত কলেজের ফাইল বা নথি দেখার সুযোগ পাইনি। খুব দ্রুতই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। এরপরই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাব।”

বিশ্লেষণ: শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নতুন নীতিমালা এবং মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে অনেক নামী-দামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন ফি’ বা ‘পুনঃভর্তি ফি’র নামে অভিভাবকদের পকেট কাটছে। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন ছিল নড়বড়ে।

মূল চ্যালেঞ্জগুলো যেখানে:

১. তদারকি: সচিবালয়ে ঘোষণা দিলেও মফস্বল বা জেলা শহরের স্কুলগুলোতে এই নির্দেশ পালিত হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য শক্তিশালী মনিটরিং সেল প্রয়োজন।

২. এমপিও রাজনীতি: এমপিও পর্যালোচনার কথা বলে যদি প্রকৃত যোগ্য শিক্ষকরা বঞ্চিত হন, তবে তৃণমূলে অসন্তোষ বাড়তে পারে।

৩. সাত কলেজ ইস্যু: সাত কলেজের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক সংকট নিরসনে দ্রুত কমিটি গঠন না করলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নতুন এই ‘আর্থিক স্বচ্ছতা নীতিমালা’ যদি সঠিকভাবে কার্যকর হয়, তবে সাধারণ মানুষের শিক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিক কেন্দ্রের বদলে প্রকৃত মানুষ গড়ার কারখানায় রূপান্তরিত হবে।