দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে সেখানে পৌঁছে তিনি শহীদ ওসমান হাদির পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরেও ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারত সম্পন্ন করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান সরাসরি আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে যান। সেখানে তিনি ভোটার হওয়ার উদ্দেশ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নিবন্ধনের জন্য আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ ও স্বাক্ষর প্রদান করেন। এর আগে তিনি ও তার মেয়ে জাইমা রহমান অনলাইনে ভোটার হওয়ার আবেদন ফরম পূরণ করেছিলেন। এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, আবেদন প্রক্রিয়ার সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ায় আগামী ৭ থেকে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারেক রহমানের হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র পৌঁছে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৭-২০০৮ সালে যখন বাংলাদেশে প্রথম ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়, তখন তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে থাকার কারণে এতদিন তিনি ভোটার তালিকায় নাম লেখানোর সুযোগ পাননি। তবে তার আগেই দেশে ফিরে ভোটার তালিকায় নাম লিখিয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ২০০৮ সালেই ভোটার হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
এদিন কবর জিয়ারত ও এনআইডি নিবন্ধনের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে শ্যামলীর পঙ্গু হাসপাতালে যাওয়ার কথা ছিল তারেক রহমানের। তবে বর্তমানে ওই হাসপাতালে গণঅভ্যুত্থানে আহত কোনো রোগী চিকিৎসাধীন না থাকায় শেষ মুহূর্তে সেই কর্মসূচিটি বাতিল করা হয়। নির্বাচন কমিশন ভবন থেকে বের হওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতা তাকে অভ্যর্থনা জানান। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এনআইডি নিবন্ধনের মাধ্যমে তারেক রহমান দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করলেন।