বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতির সফলতা কামনা রুশ প্রেসিডেন্টের; ঢাকায় রুশ রাষ্ট্রদূতের হাতে পৌঁছেছে অভিনন্দনবার্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পুতিন তাঁর অভিনন্দনবার্তায় বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে সফলতা কামনা করেছেন। বিষয়টি শুক্রবার রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস উইংয়ের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে পাঠানো অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন।
অভিনন্দনবার্তায় যা বললেন পুতিন
রুশ দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুতিন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেছেন।
পুতিন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সুস্বাস্থ্য, কল্যাণ ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের স্বার্থে ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে সফলতা কামনা করেছেন। রুশ প্রেসিডেন্টের এই বার্তাকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছে রুশ দূতাবাস।
২৫৫ ভোটে নির্বাচিত, ২১ আগস্ট শপথ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছিলেন ৮৮ ভোট। পরদিন ২১ আগস্ট বঙ্গভবনে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, কাতার, মালদ্বীপ ও নেপালের পক্ষ থেকেও অভিনন্দনবার্তা আসে।
ঢাকা-মস্কো সম্পর্কের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, শিক্ষা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।
রাশিয়ার অভিনন্দনবার্তায় সরাসরি নতুন কোনো দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের ঘোষণা না থাকলেও, বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে পুতিনের ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্কের ধারাবাহিকতার একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক অভিনন্দন আসায় বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও যোগাযোগের পর্ব জোরদার হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ধারাবাহিকতায় নতুন বার্তা
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুলকে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে অভিনন্দন জানানোর ধারাবাহিকতায় পুতিনের বার্তাটি নতুন সংযোজন। বিশেষ করে রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শক্তির রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিনন্দনবার্তা পাওয়ায় বিষয়টি বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে অভিনন্দনবার্তায় নতুন কোনো চুক্তি, সফর বা নীতিগত সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে আপাতত এটিকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক শুভেচ্ছা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।