ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১১ নভেম্বার ২০২৫, ০৭:৩৩ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীতে পরিকল্পিত বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগে আতঙ্ক, পুলিশের ধারণা —‘সমন্বিত নাশকতা’

রাজধানীতে পরিকল্পিত বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগে আতঙ্ক, পুলিশের ধারণা —‘সমন্বিত নাশকতা’

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সোমবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত একাধিক বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শহরজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাগুলো ছিল পরিকল্পিত এবং চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘিরে বৃহত্তর নাশকতার অংশ।

সূত্র জানায়, ভোর পৌনে ৪টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে মিরপুর, ধানমন্ডি, খিলগাঁও, মৌচাক, মেরুল বাড্ডা, শাহজাদপুর ও মোহাম্মদপুরসহ অন্তত সাতটি এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ককটেল বিস্ফোরণ ও গণপরিবহনে আগুন দেওয়া হয়। সবক্ষেত্রেই মোটরসাইকেলে করে মুখোশ বা হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা দ্রুত হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়।

মেরুল বাড্ডা ও শাহজাদপুরে ভোর ৫টা ৪০ মিনিট থেকে ৬টার মধ্যে দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়, যা পরে ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণে আনে। অন্যদিকে মিরপুর-২ নম্বর, ধানমন্ডির রোড ২৭ ও ৯/এ, খিলগাঁও ফ্লাইওভার, মৌচাক ও মোহাম্মদপুরে একাধিক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশের মতে, হামলাগুলো পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় একই সময়ে সংঘটিত হয়েছে—যা সমন্বিত নাশকতার ইঙ্গিত দেয়। রাজধানীতে ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে আরও বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা। জনমনে আতঙ্ক তৈরি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করতেই এমন ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহে বাসে আগুনে চালকের মৃত্যু:

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় সোমবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে একটি পরিবহন কোম্পানির বাস সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে বাসের চালক ঘটনাস্থলেই দগ্ধ হয়ে মারা যান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত সোয়া ৩টার দিকে উপজেলার ভালুকজান এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিতে হঠাৎ আগুন দেওয়া হয়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে চালক বাসের ভেতরেই আটকা পড়েন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুর্বৃত্তদের শনাক্তে অভিযান চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি রাজধানীর সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে একই ধারার একটি নাশকতা হতে পারে।