ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বার ২০২৫, ১০:৪১ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা: অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়শা গ্রেপ্তার

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা: অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়শা গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ফ্ল্যাটে মা লায়লা আফরোজ (৪৮) ও স্কুলপড়ুয়া মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়াকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্র বুধবার দুপুরে জানায়, বরিশাল বিভাগের নলছিটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় গৃহকর্মীকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত প্রধান সন্দেহভাজন এই গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার পরিচয় শনাক্ত করলেও তদন্তের স্বার্থে আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রেপ্তারের পর প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

মামলার বিবরণ:

গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে শাহজাহান রোডের ১৪ তলা ভবনের সপ্তম তলায় এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতে নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৭টার দিকে আজিজুল ইসলাম কর্মস্থল স্কুলের দিকে যাওয়ার পর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বাসায় ফিরে তিনি স্ত্রী ও মেয়ের লাশ দেখতে পান। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বাসা থেকে একটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে।

সিসিটিভি ফুটেজ ও শনাক্তকরণ:

ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় ২০ বছর বয়সী ওই তরুণী (যিনি চার দিন আগে আয়েশা পরিচয় দিয়ে কাজে যোগ দিয়েছিলেন) সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নাফিসার স্কুলড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান। স্বজনেরা এই নারীকে জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করেছিলেন।

তদন্তসূত্র বলছে, গৃহকর্মী নিজের আসল নাম ও ঠিকানা গোপন করেছিলেন এবং কাজে যোগ দেওয়ার সময় তার সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন ছিল না। বাসা থেকে বেরিয়েই চুরি করা ফোনটি তিনি বন্ধ করে দেন। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার বেশির ভাগই অচল থাকায় তাকে শনাক্ত করতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কাজ করতে হয়েছে।

সুরতহাল প্রতিবেদন অনুসারে, লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং নাফিসার দেহে ৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সকালে মা-মেয়ের মরদেহ নাটোরে দাফন সম্পন্ন হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আয়েশাকে এখন জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করবে পুলিশ।