ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

মেট্রোরেলের রিচার্জ এখন হাতের মুঠোয়: চালু হলো নতুন মোবাইল অ্যাপ

মেট্রোরেলের রিচার্জ এখন হাতের মুঠোয়: চালু হলো নতুন মোবাইল অ্যাপ

ঢাকা ও এর আশেপাশের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। এখন থেকে মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন পরিবহনে ব্যবহৃত র‌্যাপিড পাস ও এমআরটি পাস রিচার্জ করার জন্য যাত্রীদের আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। সোমবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ডিজিটাল অ্যাপ-ভিত্তিক সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন।

নতুন এই অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীরা অত্যন্ত নিরাপদে ও দ্রুততম সময়ে তাদের স্মার্ট কার্ড রিচার্জ করতে পারবেন। গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে একবার সাইন-আপ করলেই সেবাটি গ্রহণ করা সম্ভব। এই অ্যাপের অন্যতম সুবিধা হলো, এনএফসি প্রযুক্তি সম্পন্ন স্মার্টফোনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কার্ডের ব্যালেন্স যাচাই করতে পারবেন এবং কার্ড ব্যবহারের বিস্তারিত ইতিহাস দেখতে পাবেন। রিচার্জের জন্য বিকাশ, রকেট, ভিসা ও মাস্টার কার্ডসহ বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনলাইনে রিচার্জের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সীমা ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অনলাইন পেমেন্ট সফল হওয়ার পর কার্ডটি স্টেশনে থাকা অ্যাড ভ্যালু মেশিনে ট্যাপ করতে হবে, যাতে রিচার্জকৃত অর্থ কার্ডে কার্যকর হয়। সফলভাবে রিচার্জ সম্পন্ন হলে গ্রাহকের নিবন্ধিত মোবাইল ফোনে একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা পাঠানো হবে। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রিচার্জ সুবিধা চালু করা হলেও যাত্রীদের সুবিধার্থে দ্রুততম সময়ে অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের পরিবহন খাতে ডিজিটাল বিপ্লব আনাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে মেট্রোরেলে এই পাসের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হলেও ভবিষ্যতে বাসসহ অন্যান্য সব ধরনের গণপরিবহনে র‌্যাপিড পাস ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ডিটিসিএ-র নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই অ্যাপ চালুর ফলে যাত্রীদের সময় বাঁচবে এবং যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।