এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন শুল্কের জবাবে ভারতের পাল্টা শুল্ক আরোপ

মার্কিন শুল্কের জবাবে ভারতের পাল্টা শুল্ক আরোপ

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্কের জবাবে এবার পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। বিশ্ববাজারে ডালের বৃহত্তম ভোক্তা দেশ হিসেবে পরিচিত ভারত মার্কিন ডাল আমদানির ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গত বছরের ৩০ অক্টোবর হলুদ মটরের ওপর এই শুল্ক ঘোষণা করা হয়, যা চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। যদিও ভারত সরকার বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি প্রচার করেনি, তবে বিশ্লেষকরা একে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির একটি নিরব কিন্তু শক্তিশালী জবাব হিসেবে দেখছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা ও নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্য ডাল উৎপাদনে শীর্ষে থাকলেও ভারতের এই নতুন শুল্ক নীতির কারণে তারা এখন কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মন্টানার সিনেটর স্টিভ ডেইনস এবং নর্থ ডাকোটার সিনেটর কেভিন ক্রেমার গত ১৬ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই শুল্ক প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিতে ট্রাম্পকে অনুরোধ জানান। সিনেটরদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন সক্ষমতা ও ভারতের বিপুল চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে একটি লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি করা সম্ভব।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের এই বাণিজ্যিক টানাপড়েনের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জেরে। সে সময় ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করলে দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। এর ফলে ভারতের টেক্সটাইল, রাসায়নিক ও রত্ন শিল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় বাজারের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ কৃষক সংগঠনগুলোর চাপের মুখে ভারত সরকার এখন ডাল আমদানিতে এই কড়া অবস্থান নিয়েছে। উল্লেখ্য যে, ভারত বর্তমানে বিশ্বের মোট ডাল উৎপাদনের প্রায় ২৭ শতাংশ একা ভোগ করে থাকে।

তবে চলমান এই বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যেই আশার আলো দেখছেন অনেকে। ভারতের বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম পর্যায় চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। বর্তমানে উভয় দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে ভার্চুয়ালি আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই বাণিজ্য লড়াই কেবল দুই দেশের অর্থনীতি নয়, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের ওপরও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প ও মোদির মধ্যকার আলোচনা এই সংকট নিরসনে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে।