রাজধানীর কাকরাইলে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে হক ক্যাসেল ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তির ষড়যন্ত্রের কারণে আগামীতে যে সরকারই আসুক না কেন দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের কিছু প্রভাবশালী শক্তি বাংলাদেশকে শান্তিতে থাকতে দিতে চায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সাথে তিনি প্রশাসনের ওপর মহলের একাংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে বলেন যে নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যেই তালিকা তৈরি করা হয়েছে যা জনমতের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
বিগত বছরগুলোর রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন যে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক গোষ্ঠীর অর্জন নয় বরং দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের জেল-জুলুম সহ্য করার মধ্য দিয়েই আন্দোলনের এই পথ তৈরি হয়েছে। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে বর্তমানে অনেকে এমন আচরণ করছেন যেন তারাই দেশটিকে দ্বিতীয়বার স্বাধীন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে সেই সময়ে যুদ্ধ করেও তারা ক্ষমতার দাবি করেননি অথচ বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের একাংশ ত্যাগী রাজনীতিকদের অবমূল্যায়ন করে সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে চাইছে। তিনি আরও দাবি করেন যে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট বর্তমানে ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করছে এবং নির্বাচনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে যা দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে মির্জা আব্বাসের এই বক্তব্য মূলত নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকার লড়াইয়ে একটি কৌশলগত অবস্থান। প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি যেমন ভোটারদের সজাগ করতে চেয়েছেন তেমনি বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে জাতীয়তাবাদী সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে তার কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে ক্ষমতার অংশীদারিত্ব নিয়ে জোটবদ্ধ দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব নিয়ে তার প্রকাশ্য সমালোচনা আগামী নির্বাচনের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ঢাকা-৮ আসনের সাধারণ মানুষের কাছে নিজের অতীত সেবামূলক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তিনি মূলত জনবিচ্ছিন্ন নেতৃত্বের বিপরীতে নিজেকে একজন ‘মাটির মানুষ’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।
নিজের নির্বাচনী এলাকার জনগণের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন যে বিগত প্রায় দুই দশক এই এলাকার মানুষ তাদের প্রতিনিধির দেখা পায়নি। তিনি মন্ত্রী বা মেয়র থাকাকালীনও কখনো রাজকীয় জীবন যাপন না করে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ছিলেন বলে দাবি করেন। রমনা পার্কের উন্নয়নসহ এলাকার মানুষের যেকোনো বিপদে এক ফোনেই পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা কোনো ষড়যন্ত্রে পা না দিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তার মতে ক্ষমতা কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয় বরং জনগণের রায়েই দেশের প্রকৃত পরিবর্তন আসা উচিত।