ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বার ২০২৫, ০১:৪১ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঁচ সেবা বন্ধ হচ্ছে ৩০ নভেম্বর থেকে

বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঁচ সেবা বন্ধ হচ্ছে ৩০ নভেম্বর থেকে

বাংলাদেশ ব্যাংক সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড বিক্রিসহ গ্রাহকসেবা কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন আনছে। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে পাঁচ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ হয়ে যাবে। পরে ধাপে ধাপে ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগীয় কার্যালয়েও এসব সেবা বন্ধ করা হবে।

বন্ধ হতে যাওয়া সেবাগুলো হলো সঞ্চয়পত্র বিক্রি, প্রাইজবন্ড বিক্রি ও ভাঙানো, সরকারি ট্রেজারি চালান গ্রহণ, চালানের ভাংতি টাকা দেওয়া এবং ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল সেবা। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বন্ধ করলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলোতে এসব সেবা চালু থাকবে। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে বাড়তি তদারকির আওতায় আনা হবে এবং গ্রাহকদের সচেতন করতে প্রচারণা চালানো হবে।

মতিঝিল কার্যালয়ে বর্তমানে ২৮টি কাউন্টারে সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড, ট্রেজারি চালানসহ মোট ১০ ধরনের সেবা দেওয়া হয়। ভবনের নিরাপত্তা জোরদার, আধুনিকায়ন, স্বয়ংক্রিয় ভল্ট স্থাপন ও জরুরি নিরাপত্তা কাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১২টি কাউন্টার বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে ডিসেম্বর থেকে নগদ টাকা লেনদেন, সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড কেনাবেচা আর হবে না।

তবে ধাতব মুদ্রা বদল, স্মারক মুদ্রা বিক্রি, অপ্রচলিত নোট সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন– এই কিছু সেবা ১৬টি কাউন্টারে চলমান থাকবে। ভবিষ্যতে এগুলোও ধাপে ধাপে অন্য বিভাগে স্থানান্তরের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পুরো দেশে বাণিজ্যিক ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর ও পোস্ট অফিসেই সঞ্চয়পত্র পাওয়া যায়। সব ব্যাংকে প্রাইজবন্ডও পাওয়া যায়। তবু নির্ভরযোগ্যতা ও ঝামেলামুক্ত সেবার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসেই গ্রাহকের ভিড় বেশি। বর্তমানে দেশজুড়ে সঞ্চয়পত্রের পরিমাণ ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি, যার এক-তৃতীয়াংশই এই কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত।

গত মাসে মতিঝিল অফিসে সার্ভার জালিয়াতির ঘটনায় ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আত্মসাত ও আরও ৫০ লাখ টাকার চেষ্টা ধরা পড়ে। এ নিয়ে মামলা ও তদন্ত চলছে। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, সেবাবন্ধের সিদ্ধান্ত জালিয়াতির কারণে নয়; কেন্দ্রীয় ব্যাংক উচ্চ নিরাপত্তা–অঞ্চল হওয়ায় মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণই মূল বিবেচনা।