বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ইঙ্গিত মিলেছে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বৈঠকে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, পরিবহন করিডোর, বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সাইডলাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই নেতা চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যৎভিত্তিক কমিউনিটি গঠনের লক্ষ্যে বিদ্যমান সার্বিক কৌশলগত ও সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
বিশেষ গুরুত্ব পায় দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত প্রত্যাবাসনের প্রশ্ন। পাশাপাশি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে পরিবহন করিডোর ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।
এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও চীনের এই আলোচনা শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং আঞ্চলিক সংযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং মানবিক সংকট মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিকও উন্মোচন করতে পারে।