ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৫ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ চালু: জামানত লাগবে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত

বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ চালু: জামানত লাগবে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এখন থেকে ক্যাটাগরি ভেদে বাংলাদেশি যাত্রীদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ১৮ লাখ টাকা) পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দিতে হতে পারে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে।

মূলত ভিসার মেয়াদ শেষে অতিরিক্ত সময় অবস্থানের (ওভারস্টে) প্রবণতা রোধ করতে এই ‘পাইলট প্রোগ্রাম’ চালু করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

কনস্যুলার অফিসারের সিদ্ধান্তে বন্ড

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে তাঁর ওপর বন্ডের শর্তারোপ করতে পারবেন। বন্ডের পরিমাণ নির্ধারিত হবে তিনটি ধাপে— ৫ হাজার, ১০ হাজার এবং ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এই অংক নির্ধারণ করবেন।

নির্দিষ্ট তিন বিমানবন্দর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা

বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর ব্যবহারের নিয়ম করে দেওয়া হয়েছে:

১. বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS) ২. নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK) ৩. ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD) > সতর্কবার্তা: এই তিনটি বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা বের হলে তা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে। এতে জামানতের অর্থ ফেরত পেতে জটিলতা হতে পারে বা প্রবেশে বাধা দেওয়া হতে পারে।

জামানত ফেরত পাবেন যেভাবে

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, এই জামানত একটি ফেরতযোগ্য অর্থ। ভ্রমণকারী যদি:

অনুমোদিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন।

ভিসা পাওয়ার পর ভ্রমণ না করেন।

অথবা বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পান।

তবে যদি কেউ নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum) বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন, তবে তাঁর পুরো অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে। বন্ডের টাকা জমা দিতে হবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে।

তালিকায় আরও যেসব দেশ

বর্তমানে বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশ এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল ও ভুটান ছাড়াও রয়েছে আলজেরিয়া ও কিউবার মতো দেশগুলো। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভ্রমণ যেমন ব্যয়বহুল হবে, তেমনি ভিসা প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠবে।