ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৭ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৬:৫৪ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বানানোর নীল নকশা: টাইমস অব ইসলামাবাদের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

বাংলাদেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বানানোর নীল নকশা: টাইমস অব ইসলামাবাদের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) ১৯৭১ সালের ‘মুক্তিবাহিনী’র আদলে নতুন একটি ফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসলামাবাদ’। পত্রিকাটির দাবি অনুযায়ী, এই ফোর্সের মূল লক্ষ্য হবে বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ সদৃশ পরিস্থিতি তৈরি করা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা।

ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কী?

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাকেই পুঁজি করতে চাইছে দিল্লি। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করে তোলা এবং দেশে একটি উপদলীয় সংঘাত বা গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি করাই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।

শিক্ষিত যুবকদের বিপথগামী করার নীল নকশা

টাইমস অব ইসলামাবাদের বরাতে জানা যায়, বাংলাদেশের শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের বিভ্রান্ত করে উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি ভয়ঙ্কর ছক কষা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ‘তেহরিক-ই-তালিবান বাংলাদেশ’ (টিটিবি)-র মতো গ্রুপগুলোর মাধ্যমে তরুণদের নিয়োগ দিয়ে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ তৈরি করার পরিকল্পনা চলছে। এর মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ ও ‘চরমপন্থী স্বর্গরাজ্য’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হতে পারে, যাতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের পথ প্রশস্ত হয়।

ভারত কেন বিচলিত?

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র প্রভাব খর্ব হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সহযোগিতা এবং চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দিল্লিকে বিচলিত করে তুলেছে। এই ‘স্ট্র্যাটেজিক লস’ কাটিয়ে উঠতেই বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে পুনরায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান

দেশের এই নাজুক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও আদর্শিক ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলায় সরকারকে দক্ষ ভূমিকা পালন এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক এই মরণখেলায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশবাসীকে ইস্পাত কঠিন সংহতি প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।