বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমাত্রিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কৃষি, বাণিজ্য, শ্রম অধিকার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন ও কৌশলগত ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে নজরুল ইসলাম খান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষির আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সরকারের ‘কৃষি কার্ড’ কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন এবং চরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায় পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের কৃষিপণ্য, বিশেষ করে আম, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, কৃষিপণ্য রপ্তানির সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর কোল্ড চেইন ও রেফ্রিজারেটেড পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে মার্কিন পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা কমানোর আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সরকার কাজ করছে। এসব বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর প্রশংসা করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা জোরদারের এই উদ্যোগ ইতিবাচক। এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে উৎপাদন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রেখে শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে। নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংকটটির নিরাপদ ও টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা এবং মিয়ানমারের ওপর অব্যাহত কূটনৈতিক চাপ প্রয়োজন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতও রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে একটি জটিল আঞ্চলিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
এ ছাড়া শিক্ষা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য খাতে নতুন সহযোগিতামূলক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট, পলিটিক্যাল অফিসার জেমস এ. স্টুয়ার্ট এবং লেবার অ্যাটাশে লিনা খান।