ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা (ULFA)-র সামরিক প্রধান পরেশ বড়ুয়া বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে দাবি করেছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’ এবং ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। খবরটি নিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বনানীর সেফ হাউজে অবস্থানের দাবি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর সহায়তায় টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে পরেশ বড়ুয়াকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তাকে রাজধানীর বনানীর একটি কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত ‘সেফ হাউজে’ রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর আগে তাকে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ের একটি হোটেলেও রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
দেশীয় মহলের সাথে গোপন বৈঠক
ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশে থাকাকালীন পরেশ বড়ুয়া বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ও জামায়াতপন্থী সাবেক সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— জামায়াত নেতা গোলাম আযমের ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আজমী এবং ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামি সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রাজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী। এই বৈঠকগুলো ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুপ চেটিয়ার ভিন্ন মত
তবে পরেশ বড়ুয়ার দীর্ঘদিনের সহচর এবং বর্তমানে আত্মসমর্পণকারী উলফা নেতা অনুপ চেটিয়া এই খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, পরেশ বড়ুয়া বর্তমানে বাংলাদেশে যাওয়ার মতো ঝুঁকি নেবেন না, কারণ সেখানে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ রয়েছে। তিনি একে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাজানো গল্প হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা: ষড়যন্ত্রের নতুন নীল নকশা?
আলোচিত সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এক বিশ্লেষণে দাবি করেছেন, বাংলাদেশকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত করার প্রক্রিয়া ইরাক বা সিরিয়ার চেয়েও দ্রুতগতিতে চলছে। তার মতে, উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো ও প্রশাসনের ভেতরের একটি অংশ একজোট হয়ে দেশের সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীকে মানসিকভাবে দুর্বল করা এবং বিকল্প বিপ্লবী সরকার গঠনের তোরজোর চলছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ঝুঁকি?
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যদি ভারত সরকার নিশ্চিত হয় যে বাংলাদেশে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী বা নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা বাড়ছে, তবে তারা পাকিস্তান বা মিয়ানমারের মতো বাংলাদেশেও ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বা সামরিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা করতে পারে। অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সামরিক চাপের এই দ্বিমুখী সঙ্কটে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।