বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ ছিল এমন দৃঢ় ও সর্বজনস্বীকৃত যে মুসলিম–অমুসলিম কেউই তার ন্যায়বোধ নিয়ে সংশয়ে ছিলেন না। সেই আদর্শকে সামনে রেখে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়পরায়ণতাকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করবে।
রবিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইমাম ও খতিব সম্মেলনে ভার্চুয়ালি বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা চালু করা হবে এবং ‘ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট’কে শক্তিশালী করে আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক প্রকল্প নেয়া হবে।
তিনি জানান, দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদে প্রায় সতেরো লাখ ইমাম–খতিব–মুয়াজ্জিন দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু তাদের অনেকেই আর্থিক সংকটে আছেন। তাই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে তাদের সার্ভিস রুল ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাঠামোবদ্ধ পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। তিনি ইমাম–ওলামাদের প্রতি প্রতিটি দাবির বিপরীতে সুপারিশ তৈরির আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, ইসলামের মৌলনীতির ব্যাখ্যা রাজনৈতিক স্বার্থে বিকৃত হয়ে সমাজে বিভক্তি তৈরি করা উচিত নয় এবং এ ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরাম সমাজ ও রাষ্ট্রে ঐক্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি জানান, বিএনপি এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা চায় যেখানে মুসলমানরা নিশ্চিন্তে ধর্মীয় জীবন পালন করতে পারবেন এবং অন্য ধর্মাবলম্বীরাও শান্তিপূর্ণভাবে তাদের বিশ্বাস অনুসরণ করবেন।
বক্তব্যে তিনি তুলে ধরেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস সংযোজন করেছিলেন, যা দেশের জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের মূল্যবোধ প্রতিফলিত করে।
তিনি আরো স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৬ সালে বিএনপি সরকার কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ সনদ ‘দাওরায়ে হাদিস’কে মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি প্রদানের উদ্যোগ নেয় এবং মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কর্মসূচি চালু করে, যা এখনো চলমান।
আগামী নির্বাচনে ইসলামভিত্তিক ন্যায়পরায়ণ সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে তারেক রহমান ইমাম–ওলামাদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন এবং নিজের মা, দল ও দেশবাসীর জন্য দোয়া চান।