ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বার ২০২৫, ১১:৩১ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ: ড. ইউনূসের দ্রুত তদন্তের নির্দেশ

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ: ড. ইউনূসের দ্রুত তদন্তের নির্দেশ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়।

জানা গেছে, তার বাম কানের নিচে গুলি লেগেছে। দুপুর আড়াইটার পরপরই তাকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।

গুরুতর অবস্থা, মাথার ভেতরে গুলি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, ওসমান হাদিকে যখন জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়, তখন তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিল। পরে তাকে সিপিআর (Cardiopulmonary Resuscitation) দেওয়া হয়। বর্তমানে তার রক্তচাপ (প্রেসার) কিছুটা ভালো আছে। তবে তার মাথার ভেতরে গুলি রয়েছে এবং কানের পাশে গুলি লেগেছে। বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে।

প্রধান উপদেষ্টার উদ্বেগ ও কঠোর নির্দেশনা

নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীর ওপর এমন সহিংস হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার বিকেলে এক বিবৃতিতে তিনি এই হামলার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "নির্বাচনী পরিবেশে এমন সহিংস হামলা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং দেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।"

তিনি আহত ওসমান হাদির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে, চিকিৎসা কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন।

তদন্তে দ্রুত পদক্ষেপের তাগিদ

ড. ইউনূস আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ও ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে হামলায় জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। তিনি ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য গ্রহণ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং হামলার পেছনে কোনো সংগঠিত পরিকল্পনা থাকলে তা উন্মোচনের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। জনগণের নিরাপত্তা এবং প্রার্থীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। দোষীরা যে-ই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে।"

রাজনৈতিক মহলের নিন্দা

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাৎক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, "গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো জায়গা নেই। কোনো সময়ই না। আমাদের মতাদর্শ যাই হোক, যে কেউ ভয়ভীতি বা শক্তির আশ্রয় নিলে তাকে একসঙ্গে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।"

এছাড়াও, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, "হাদির মতো আমাদের জীবনেরও শঙ্কা রয়েছে, তবে আমরা জীবন দিয়ে লড়াই করে যেতে চাই।"

এ বিষয়ে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, "আমরা শুনেছি বিজয়নগর এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত নই, আমাদের টিম পাঠিয়েছি। টিম কনফার্ম করলে বিস্তারিত জানাতে পারব।"

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস দেশের সব রাজনৈতিক পক্ষ এবং নাগরিকদের প্রতি আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত করার স্বার্থে শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।