প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বার ২০২৫, ১০:২৫ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

নলকূপের গর্ত থেকে উদ্ধার হলেও বাঁচানো গেল না শিশু সাজিদকে

নলকূপের গর্ত থেকে উদ্ধার হলেও বাঁচানো গেল না শিশু সাজিদকে

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হওয়া শিশু সাজিদ আর নেই। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সাজিদকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল, কিন্তু তার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অরক্ষিত গর্তে মর্মান্তিক পতন

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে বুধবার দুপুরে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে। সাজিদ বাড়ির পাশের জমি দিয়ে হাঁটার সময় খড় দিয়ে ঢাকা একটি অরক্ষিত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যায়। সাজিদের মা পেছন থেকে "মা মা" চিৎকার শুনে খড় সরিয়ে খোলা মুখের সেই গভীর গর্ত দেখতে পান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর এক ব্যক্তি গভীর নলকূপ স্থাপনের চেষ্টা করে ১২০ ফুট পর্যন্ত খনন করেও পানি পাননি। এরপর পাইপটি মুখ খোলা অবস্থায় রেখেই তিনি স্থান ত্যাগ করেন। বৃষ্টিতে গর্ত আরও বড় হলেও কোনো সতর্কতা চিহ্ন বা ঢাকনা দেওয়া হয়নি। অবশেষে এই অরক্ষিত অবস্থাই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হলো।

দীর্ঘ অভিযান ও উদ্বেগ

ঘটনার পরপরই এলাকাবাসীর ভিড় জমে ঘটনাস্থলে। গর্তের পাশে রাতজুড়ে সাজিদের মা সন্তানের জন্য অবিরাম কান্না ও দোয়া করতে থাকেন। শুরুতে গর্তের ভেতর থেকে কিছু শব্দ শোনা গেলেও, সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ হয়ে যায়, যা উদ্ধারকর্মীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তোলে।

তবে ফায়ার সার্ভিস গর্তের ভেতরে অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রেখেছিল। মেডিকেল টিম এবং স্থানীয় প্রশাসন পুরো সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করে উদ্ধারকাজ তদারকি করে। সন্ধ্যায় লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী শিশুটির জীবিত থাকার সম্ভাবনা খুবই কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তবুও তাকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অভিযানের পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।