প্রায় ১৭ বছর ৩ মাস লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর সপরিবারে নিজ দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দেশি সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতেও ব্যাপক উদ্দীপনা ও গুরুত্ব লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্বজুড়ে প্রধান প্রধান মিডিয়া আউটলেটগুলো এই ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে বর্ণনা করছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং প্রভাবশালী বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে তাকে বাংলাদেশের আগাম নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে অভিহিত করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই ফিরে আসা দেশের আসন্ন নির্বাচনের ক্ষমতার সমীকরণকে নাটকীয়ভাবে বদলে দিতে পারে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ডন এবং ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস ও দ্য হিন্দুও এই খবরটি বড় আকারে প্রকাশ করেছে। বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে যে, স্ত্রী ও কন্যাসহ তার ফিরে আসা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য যে, ২০০৭ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর কারাবন্দী হয়েছিলেন তারেক রহমান। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি সপরিবারে লন্ডন যান। দীর্ঘ এই সময়ে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা ও সাজার পাহাড় গড়ে তোলা হলেও সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে অবশেষে তিনি মাতৃভূমিতে পা রাখলেন। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি এখন নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে সংবর্ধনাস্থলের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। তার এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির নতুন রূপরেখা তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।