ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৬ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৫:৩৩ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

দেশ গড়ার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে জনতার মাঝে তারেক রহমান

দেশ গড়ার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে জনতার মাঝে তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বীরের বেশে স্বদেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর থেকেই সারা দেশে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই তিনি মাতৃভূমির মাটি ছুঁয়ে দেখেন। ইমিগ্রেশন শেষে তাকে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সেখান থেকে বাংলাদেশ লেখা লাল-সবুজ একটি বিশেষ বাসে চড়ে তিনি রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে আয়োজিত গণসংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান।

বিকেল ৩টা ৫৭ মিনিটে লাখো জনতার উপস্থিতিতে বক্তব্য শুরু করেন তারেক রহমান। শুরুতেই তিনি মহান রাব্বুল আলামিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আল্লাহর রহমতে আমি আজ মাতৃভূমিতে ফিরতে পেরেছি। তার বক্তব্যের মূল সুর ছিল একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া। তিনি মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উক্তির আদলে বলেন, আমার একটি পরিকল্পনা আছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখান, যেখানে মা-বোনেরা এবং সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরে আসার নিশ্চয়তা পাবেন।

দেশের সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ৭১ এর মতো ২০২৪ সালেও দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। যারা এই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে একটি প্রত্যাশিত ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি পাহাড় ও সমতলের সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিয়ে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের ওপর জোর দেন। তরুণ প্রজন্মই আগামীর আধুনিক বাংলাদেশ গড়বে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য যে, তারেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানও দেশে ফিরেছেন। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থেকে দল পরিচালনা করার পর সরাসরি জনতার সামনে তার এই উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। গণসংবর্ধনা শেষে তিনি অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান এবং সেখান থেকে গুলশানের বাসভবনে ফেরার কথা রয়েছে। তার এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন যুগের সূচনা হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।