এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বার ২০২৫, ০৫:০৬ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

দেশের ৪০ শতাংশের বেশি কিশোর-কিশোরী শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয়

দেশের ৪০ শতাংশের বেশি কিশোর-কিশোরী শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয়

দেশের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সভাকক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় এই গবেষণার ফল উপস্থাপন করা হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪৩ শতাংশ কিশোরী ও ৪০ শতাংশ কিশোর পর্যাপ্ত শারীরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে না, অর্থাৎ তারা নিষ্ক্রিয়। এছাড়া, দেশের ১১ শতাংশ কিশোর-কিশোরীর ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকার প্রবণতা কিশোরদের মধ্যে বাড়ছে, তবে কিশোরীদের মধ্যে তা কমছে। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে নিষ্ক্রিয় কিশোরের হার ২৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে, নিষ্ক্রিয় কিশোরীর হার ৫০ শতাংশ থেকে কমে ৪৩ শতাংশ হয়েছে। নিষ্ক্রিয় কিশোরের হার ঢাকা বিভাগে (৭১ শতাংশ) এবং নিষ্ক্রিয় কিশোরীর হার রাজশাহী বিভাগে (৬০ শতাংশ) সবচেয়ে বেশি।

কর্মশালায় শিশু ও কিশোরদের শারীরিক সক্রিয়তাবিষয়ক বাংলাদেশের রিপোর্ট কার্ড তৈরির জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলোচনা হয়। সরকারের অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ, অ্যাকটিভ হেলথি কিডস, এবং অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নূরুল ইসলাম বলেন, দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের কারণ হলো অসংক্রামক রোগ, যার অন্যতম কারণ শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ২৪ শতাংশ স্থূল, আর স্থূলতা এখন শিশু-কিশোরদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে।

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডেপুটি ডিন অধ্যাপক মলয় কুমার মৃধা গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। গবেষণায় ২০২৩ সালের জাতীয় পুষ্টি সার্ভিলেন্সের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হয়, যেখানে দেশের ৯০টি কেন্দ্র থেকে ১১ হাজারেরও বেশি ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

আরেকটি জরিপে (ন্যাশনাল ইন্ডিকেটর সার্ভে ২০২৫) দেখা গেছে, ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ কিশোর-কিশোরী দৈনিক গড়ে ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে তীব্র শারীরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়। ৫৬ শতাংশ কিশোর-কিশোরী কম্পিউটার বা মুঠোফোনের পর্দায় দুই ঘণ্টার কম সময় ব্যয় করে, যেখানে কিশোরদের চেয়ে কিশোরীরা কম সময় ব্যয় করে। এছাড়া, প্রায় ১২ শতাংশ কিশোর-কিশোরী জানিয়েছে, তারা শারীরিক সক্রিয়তার বিষয়ে মা-বাবার সমর্থন বা সহায়তা পায় না।

অধ্যাপক মলয় কুমার মৃধা মন্তব্য করেন, শারীরিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির উদ্যোগ কেবল স্বাস্থ্য ব্যয় নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, যা জাতীয় উৎপাদনশীলতা বাড়াবে ও অসংক্রামক রোগের মহামারি ঠেকাতে সহায়তা করবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অসংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাবেক লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক সৈয়দ জাকির হোসেন।