ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৬ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণ এশিয়ার নতুন পরাশক্তি এখন বাংলাদেশ: ফিফার বড় স্বীকৃতি

দক্ষিণ এশিয়ার নতুন পরাশক্তি এখন বাংলাদেশ: ফিফার বড় স্বীকৃতি

দীর্ঘ খরা কাটিয়ে দেশের ফুটবলে এখন বইছে সুবাতাস। একের পর এক জয় আর প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তিতে মাঠের পারফরম্যান্স যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার (FIFA) কাছ থেকে এলো এক বড় স্বীকৃতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিফার একটি পোস্ট এখন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ফিফার সেই রহস্যময় প্রশ্ন

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের একটি ছবি পোস্ট করা হয়। ছবির ক্যাপশনে ফিফা লিখেছে, “দক্ষিণ এশিয়ার নতুন পরাশক্তি?” (New powerhouse of South Asia?)। সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।

সরাসরি কোনো ঘোষণা না দিলেও, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা যখন এমন একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেয়, তখন তা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ফুটবলের ক্রমবর্ধমান শক্তিরই জানান দেয়। এই পোস্টের নিচে হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী মন্তব্য করছেন। কেউ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন, আবার কেউ আইসিসি ও ফিফার মধ্যে তুলনা টেনে ফুটবলের প্রতি তাদের ভালোবাসার কথা জানাচ্ছেন।

মাঠের লড়াইয়ে দুর্দান্ত বাংলাদেশ

সাম্প্রতিক সময়ে কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরার অধীনে বদলে গেছে বাংলাদেশ দল। হামজা চৌধুরীর পর সামিত সোম ও কিউবা মিচেলদের মতো প্রতিভাবান ফুটবলারদের আগমনে দল এখন অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। যদিও এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পাওয়া সম্ভব হয়নি, তবে প্রতিটি ম্যাচে বাংলাদেশ যেভাবে লড়াই করেছে, তা প্রশংসিত হয়েছে ফুটবল মহলে।

বিশেষ করে, দীর্ঘ ২২ বছর পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে পরাজিত করা ছিল বাংলাদেশের ফুটবলের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এই জয়ই মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

প্রত্যাশা ও বাস্তবতার সমীকরণ

ফিফার এই পোস্টটি কেবল একটি সোশ্যাল মিডিয়া আপডেট নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ফুটবলের একটি 'গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং'। তবে এই স্বীকৃতির আড়ালে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনার দিকও রয়েছে:

প্রবাসী বিপ্লব ও পেশাদারিত্ব: হামজা চৌধুরী বা সামিত সোমদের আগমনে দলের মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে। ইউরোপীয় ও উত্তর আমেরিকার লিগগুলোতে খেলা এই ফুটবলাররা দলের ভেতর যে পেশাদারিত্ব নিয়ে এসেছেন, তা দেশি খেলোয়াড়দেরও অনুপ্রাণিত করছে। ফিফা মূলত এই 'মিক্সড কালচার' বা সংমিশ্রণকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।

ভারতকে হারানোর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব: দক্ষিণ এশিয়ায় ফুটবল মানেই ছিল ভারতের দাপট। কিন্তু বাংলাদেশকে এখন আর কোনো দেশই হালকাভাবে নিতে পারছে না। ২২ বছর পর ভারতকে হারানো প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ এখন বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে সক্ষম।

পরিকাঠামো ও ধারাবাহিকতার চ্যালেঞ্জ: ফিফা আমাদের 'পরাশক্তি' হওয়ার প্রশ্ন তুললেও, আসল উত্তর আসবে মাঠের ধারাবাহিকতায়। আমাদের ঘরোয়া লিগের মান আরও উন্নত করা এবং তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনা জরুরি। ফিফার নজরে আসা মানেই হলো এখন বিশ্বের বিভিন্ন স্কাউটদের নজরেও বাংলাদেশ থাকবে।

আইসিসি বনাম ফিফা বিতর্ক: ভক্তদের মধ্যে ক্রিকেটের (ICC) সাথে ফুটবলের (FIFA) একটি তুলনা সব সময়ই থাকে। ফিফার এই পোস্ট প্রমাণ করে যে, ফুটবল বিশ্বব্যাপী অনেক বড় মঞ্চ। ক্রিকেটে বাংলাদেশ পরাশক্তি হলেও, ফুটবলে একটু উন্নতি করলেই তা বৈশ্বিক আলোড়ন তৈরি করে।

ফিফার প্রশ্নটির উত্তর এখন বাংলাদেশের ফুটবলারদের পায়ে। দক্ষিণ এশিয়ার 'পরাশক্তি' হওয়ার যে দাবি উঠেছে, তা ধরে রাখতে হলে আগামী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে জয়ের ধারা বজায় রাখতে হবে। লাল-সবুজ জার্সিধারীরা যদি এই উন্নতির গ্রাফ ধরে রাখতে পারে, তবে অচিরেই প্রশ্নবোধক চিহ্নটি উঠে গিয়ে বাংলাদেশই হবে দক্ষিণ এশিয়ার অবিসংবাদিত ফুটবল রাজা।