বিশেষ প্রতিবেদক • প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০২:০২ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব: মধ্যপ্রাচ্যে বিধ্বংসী সংঘাত, থমকে গেছে বিশ্ব অর্থনীতি

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব: মধ্যপ্রাচ্যে বিধ্বংসী সংঘাত, থমকে গেছে বিশ্ব অর্থনীতি

একবিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ও অনিশ্চিত সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্ব। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান ছায়া যুদ্ধ এখন সরাসরি এক মহাযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’র (Operation Epic Fury) পর এক মাস অতিক্রান্ত হলেও থামেনি ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন। নিউইয়র্ক তথা বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটাই আলোচনা—আমরা কি তবে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ শুরু করে ফেলেছি?

সংঘাতের বর্তমান চিত্র: তেহরান থেকে বৈরুত

গত ২৪ ঘণ্টায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের বৈরুতে হিজবুল্লাহর শক্তিকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলা আরও জোরদার হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, "পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।"

বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা

যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি $১১৫ ডলারে পৌঁছেছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পাম্পগুলোতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। নিউইয়র্কের সাধারণ মানুষের মধ্যেও এর প্রভাব পড়ছে; নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে হু হু করে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে ১৫ দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠালেও তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পাল্টা দাবি—আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা নয়। এদিকে, বিশ্বনেতারা ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠকে বসছেন ইউরোপীয় অর্থনীতিকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করার উপায় খুঁজতে।

বিশ্লেষকদের অভিমত

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক সীমায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন পরাশক্তিগুলোর শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার নীরবতা এবং চীনের কৌশলগত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। নিউইয়র্ক ভিত্তিক ভূ-রাজনীতিবিদদের আশঙ্কা, দ্রুত কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে এই সংঘাত এশিয়া ও ইউরোপের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশ্বের এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি যেভাবে বাড়ছে, তাতে বিশ্ব অর্থনীতি এক দীর্ঘস্থায়ী মন্দার কবলে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।