দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফেরার ঘটনাকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে ভারত বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় এবং তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার আলোকেই দেখা উচিত।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা না থাকা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় মুখপাত্র বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে পুনরায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তবে একই সম্মেলনে বাংলাদেশের বর্তমান সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন রণধীর জয়সওয়াল। তিনি সংখ্যালঘুদের ওপর অব্যাহত বৈরিতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। যদিও দিল্লিতে বাংলাদেশি মিশন ও ভিসা সেন্টারে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে ঢাকায় পৌঁছালে তারেক রহমানকে নজিরবিহীন সংবর্ধনা দেওয়া হয়। রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের ঢল নামে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর তার এই ফেরা কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। বেশ কিছু বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম তার এই প্রত্যাবর্তনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তাকে বাংলাদেশের আগামী দিনের সম্ভাব্য সরকার প্রধান হিসেবেও বিশ্লেষণ করছে। তারেক রহমানের এই ফেরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন কোনো মোড় নিয়ে আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।