দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ভেঙে দেশে ফেরার মাত্র দেড় মাসের মাথায় এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ঘটালেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন বিএনপির এই অভাবনীয় বিজয় কেবল দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি এককভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। এই ফলাফলকে 'রাজনৈতিক ভূমিকম্প' হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং স্বল্পতম সময়ে জনমতকে নিজেদের পক্ষে টেনে আনাকে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে বাংলাদেশের নির্বাচন:
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রচার করছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের এক বিশেষ বিশ্লেষণে বলেছে, "দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং বিপুল ভোটে জয়ী হওয়া প্রমাণ করে বাংলাদেশের মানুষ একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য কতটা মুখিয়ে ছিল।"
অন্যদিকে, প্রভাবশালী বার্তা সংস্থা রয়টার্স একে ‘ভূমিধস জয়’ (Landslide Victory) হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির এই জয় দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার প্রশংসা করে জানিয়েছে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেশে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার নতুন বার্তা দিচ্ছে। কাতারভিত্তিক আল জাজিরা মনে করছে, এই ফলাফল দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং সরকারের নীতি নির্ধারণে আমূল পরিবর্তন আনবে। এছাড়া ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান তাদের সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করেছে যে, একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
নির্বাচনের এই ফল প্রকাশের পর থেকেই দেশি-বিদেশি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রেখে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন করা। বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা করা হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম প্রধান কাজ। এই জয়ের ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং দাতা দেশগুলোও বাংলাদেশের আগামী দিনের অর্থনৈতিক সংস্কারের দিকে কড়া নজর রাখছে। দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপি এখন উন্নয়ন ও সুশাসনের কোন পথ বেছে নেয়, সেটিই দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।