বায়ুমান সূচক ১০২ ছুঁয়েছে; বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১১তম
রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান আবারও খারাপ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বায়ুমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) ঢাকার স্কোর দাঁড়িয়েছে ১০২, যা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত। একই সময়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা ১১তম স্থানে ছিল।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, একিউআই ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসের মান সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়। এ অবস্থায় শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসতন্ত্র বা হৃদ্রোগে আক্রান্তদের ওপর দূষিত বাতাসের প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়তে পারে।
সকালেই দূষণের মাত্রা বাড়ল
রাজধানীতে দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের বড় সমস্যা। যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, রাস্তার ধুলো এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার নির্গমন ঢাকার বায়ু দূষণের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত।
সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশার মতো ধোঁয়াটে পরিবেশ দেখা গেছে। ব্যস্ত সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপের পাশাপাশি নির্মাণকাজ চলায় বাতাসে সূক্ষ্ম ধুলিকণার পরিমাণ বেড়েছে। বিশেষ করে অতিক্ষুদ্র কণিকা পিএম ২.৫ মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবেদনশীল গোষ্ঠীর মধ্যে শিশু, প্রবীণ এবং আগে থেকে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। দূষণ বেড়ে গেলে তাঁদের অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় বাইরে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে বাতাসের মান আরও খারাপ হলে সুস্থ মানুষও বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। চোখ জ্বালা, কাশি, গলা খুসখুস এবং শ্বাস নিতে অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শুষ্ক মৌসুমে বাড়ে দূষণ
ঢাকায় সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে বায়ুদূষণ বেশি দেখা যায়। বৃষ্টি কম থাকায় বাতাসের ধুলিকণা সহজে জমে থাকে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, নির্মাণকাজ এবং যানবাহনের ধোঁয়া পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে।
বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে দূষণ কিছুটা কমলেও বছরের অন্য সময় রাজধানীর বাতাস প্রায়ই অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে চলে যায়। পরিবেশবিদদের মতে, নিয়মিত রাস্তা পরিষ্কার, নির্মাণস্থলে ধুলো নিয়ন্ত্রণ এবং পুরোনো যানবাহনের ধোঁয়া কমানো ছাড়া পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি কঠিন।
সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান—দুই পর্যায়েই উদ্যোগ প্রয়োজন। নির্মাণকাজে ধুলো কমানোর ব্যবস্থা, সড়কে নিয়মিত পানি ছিটানো, যানবাহনের নির্গমন পরীক্ষা এবং শিল্পকারখানায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া নাগরিকদেরও সম্ভব হলে দূষণ বেশি থাকা সময়ে বাইরে অবস্থান সীমিত রাখা, ব্যস্ত সড়কের ধুলাবালি থেকে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ এখন শুধু পরিবেশের সমস্যা নয়; এটি ক্রমেই নগরবাসীর দৈনন্দিন জনস্বাস্থ্য ও জীবনমানের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।