এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

ডা. জোবাইদা রহমানের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও পারিবারিক ঐতিহ্য

ডা. জোবাইদা রহমানের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও পারিবারিক ঐতিহ্য

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান বর্তমানে দেশের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব। কেবল রাজনীতির আঙিনায় নয়, বরং তার ব্যক্তিগত মেধা, উচ্চশিক্ষা এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে তিনি দীর্ঘকাল ধরে জনমানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছেন।

শিক্ষাজীবন ও পেশাগত সাফল্য

সিলেটের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৭২ সালের ১৮ জুন জন্মগ্রহণ করেন জোবাইদা রহমান। তার শিক্ষাজীবন অত্যন্ত উজ্জ্বল। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ১৯৯৫ সালে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে লন্ডনের খ্যাতনামা ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে উচ্চতর চিকিৎসাবিদ্যায় (ম্যাসিন) রেকর্ড নম্বর নিয়ে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন এবং বিশেষ কৃতিত্বের জন্য স্বর্ণপদক অর্জন করেন।

পারিবারিক ঐতিহ্য

ডা. জোবাইদা রহমানের পারিবারিক পরিচয় অত্যন্ত গৌরবময়। তার বাবা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক নৌবাহিনী প্রধান এবং যোগাযোগ ও কৃষি মন্ত্রী। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী ছিলেন তার আপন চাচা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আইরিন খান তার চাচাতো বোন। ১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

নির্বাসিত জীবন ও দেশে প্রত্যাবর্তন

২০০৮ সালে স্বামী তারেক রহমানের উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। সেখানে প্রায় ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর ২০২৫ সালের ৬ মে তিনি শাশুড়ি বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘ এই প্রবাস জীবনেও তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

বর্তমানের প্রেক্ষাপট

দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকায় সরকারি চাকরি থেকে তাকে বরখাস্ত করা হলেও, বর্তমানে তাকে স্বপদে পুনর্বহালের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডা. জোবাইদা রহমান তার মেধা ও পারিবারিক উত্তরাধিকার নিয়ে আগামীর রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে পারেন, যদিও তিনি সরাসরি কোনো সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি।

মেধা, ব্যক্তিত্ব এবং ঐতিহ্যের মিশেলে ডা. জোবাইদা রহমান আজ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম।