দেশের টেলিযোগাযোগ ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের একচেটিয়া আধিপত্যের বাজারে ভাগ বসাতে এবং গ্রাহকদের সাশ্রয়ী ডিজিটাল সেবা দিতে বিটিসিএল নিয়ে এলো দেশের প্রথম ‘মোবাইল ভার্চ্যুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর’ (MVNO) সেবা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিসিএলের গুলিস্থান ও রমনা কার্যালয়ে এই সিমের ভয়েস ও ডাটা কলসহ যাবতীয় কারিগরি কার্যক্রমের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
প্রযুক্তির চার স্তম্ভে সফল বিটিসিএল
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই ঐতিহাসিক অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিমটি এখন সফলভাবে সচল। প্রাথমিক পরীক্ষায় চারটি প্রধান ক্ষেত্র সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে:
ভয়েস কল: দেশের যেকোনো নেটওয়ার্কে উচ্চমানের কথা বলার সুবিধা।
ডাটা কল: দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ।
‘আলাপ’ ইন্টিগ্রেশন: বিটিসিএলের নিজস্ব অ্যাপ ‘আলাপ’ থেকে মোবাইল নেটওয়ার্কে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ।
জিপন (GPON) ইন্টিগ্রেশন: ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের সঙ্গে মোবাইল সেবার আধুনিক সমন্বয়।
৮ ফেব্রুয়ারি থেকে লাইভ পাইলট
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর বিটিসিএলকে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি চালুর অনুমতি দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সিমটির অ্যাক্টিভেশন ও টেস্ট কল সম্পন্ন করা হয়। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সেবার ‘লাইভ পাইলট’ বা পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন এই এমভিএনও সিম আলাদা?
এমভিএনও মূলত এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে অপারেটর নিজস্ব টাওয়ার না বসিয়ে অন্য কোনো মোবাইল অপারেটরের অবকাঠামো ব্যবহার করে সেবা দেয়। এতে করে বিশাল অবকাঠামো খরচে সাশ্রয় হয়, যার সুফল পায় গ্রাহক কম কল রেট ও সস্তা ইন্টারনেট প্যাকেজের মাধ্যমে। বিটিসিএল যেহেতু দেশের বৃহত্তম ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের মালিক, তাই তাদের এই মোবাইল সেবা ব্রডব্যান্ড ও ল্যান্ডলাইনের সাথে একীভূত হয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিটিসিএল-এর এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন গ্রাহকসেবার মান বাড়বে, অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আধুনিক স্মার্ট টেলিকম শক্তিতে রূপান্তরিত হবে।