রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫’-এর চূড়ান্ত ভাষ্য পাঠিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। মঙ্গলবার রাতে কমিশনের পক্ষ থেকে এই সনদের সর্বশেষ খসড়া পাঠানো হয় দেশের সব রাজনৈতিক দলের কাছে।
কমিশনের ধারাবাহিক সংলাপে অর্জিত ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হয়েছে এই সনদ। কমিশন জানায়, আসছে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দলগুলোর উপস্থিতিতে সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়ে পৃথক চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
যেসব বিষয়ে হয়েছে ঐকমত্য
সনদের খসড়ায় জানানো হয়েছে, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন—এ প্রস্তাবে ৩০টি রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।
ডেপুটি স্পিকারকে বিরোধীদল থেকে মনোনীত করা—এই প্রস্তাবে বিএনপি-জামায়াতসহ ৩১টি দল ও জোটের সমর্থন মিলেছে।
এছাড়া অর্থবিল ও আস্থা ভোট বাদে দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়ার প্রস্তাবে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ ৩০টি দল একমত হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষে ২৯টি রাজনৈতিক দল ও জোট ঐকমত্যে পৌঁছেছে, যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি নিয়েও বিএনপি–জামায়াতসহ ২৯টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।
সনদের তথ্যমতে, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনার পক্ষে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত, যদিও ৯টি দলের ভিন্নমত নথিবদ্ধ হয়েছে।
এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনর্বহালের পক্ষে বিএনপি–জামায়াতসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
নারী প্রতিনিধিত্ব ধীরে ধীরে ১০০ আসনে উন্নীত করার প্রস্তাবেও বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ সব রাজনৈতিক দলের সম্মতি পাওয়া গেছে।
যেসব বিষয়ে রয়ে গেছে ভিন্নমত
সনদ তৈরিতে অংশ নেওয়া ছয়টি সংস্কার কমিশনের ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে কিছু ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়ে গেছে।
সংবিধান বিলুপ্তি বা স্থগিতকরণ বিষয়ে ২৯টি রাজনৈতিক দল একমত হলেও গণফোরাম ও বাংলাদেশ জাসদসহ তিনটি দল এতে ভিন্নমত জানিয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান বা সংসদ প্রধানের মতো একাধিক পদে থাকতে পারবেন না—এই প্রস্তাবে ২৫টি রাজনৈতিক দল একমত হলেও বিএনপিসহ পাঁচটি দল ও জোট এতে আপত্তি জানিয়েছে।
এ ছাড়া সংসদে সংখ্যানুপাতিক (PR) পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবেও ভিন্নমত থেকে গেছে। সনদের তথ্যমতে, জামায়াত–এনসিপিসহ ২৩টি রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতির পক্ষে থাকলেও বিএনপিসহ সাতটি দল ও জোট এর বিরোধিতা করেছে।