এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বার ২০২৫, ০৮:৫৫ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

জুলাই আন্দোলনের মানবতাবিরোধী মামলায় রায় পাঠ শুরু

জুলাই আন্দোলনের মানবতাবিরোধী মামলায় রায় পাঠ শুরু

জুলাই মাসের গণআন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে রায় পাঠ শুরু হয়েছে।

সোমবার ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় পড়া শুরু করেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে ১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য ১৭ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করে। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান রাষ্ট্রপক্ষের সমাপনী বক্তব্য দেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের বিচারের উদাহরণ তুলে ধরেন এবং শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। পরে চিফ প্রসিকিউটর প্রতিরক্ষা পক্ষের যুক্তির জবাব উপস্থাপন করেন। স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেনও পাল্টা যুক্তি দেন।

মামলার আরেক আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেয় প্রসিকিউশন। তার আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ খালাস দাবি করেন।

৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দেন ৫৪ জন। ৩ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় প্রথম সাক্ষী খোকন চন্দ্র বর্মণের জবানবন্দির মাধ্যমে। ৮ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরা শেষে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। এরপর ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ হয়।

প্রসিকিউশন তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে—উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর অভিযোগ। মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার, যেখানে তথ্যসূত্র ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, দালিলিক প্রমাণ ও জব্দতালিকা ৪ হাজার ৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকা ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। তদন্ত সংস্থা ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

রায় পাঠ চলছে; আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে এখন সবার নজর।