ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

জুনে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩৮, এক-তৃতীয়াংশই মোটরসাইকেল আরোহী

জুনে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৩৮, এক-তৃতীয়াংশই মোটরসাইকেল আরোহী

বাংলাদেশে গত জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির চিত্র আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ৫৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন নারী ও ৫৬ জন শিশু রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। এ সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৪ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ৩১ শতাংশ।

রোববার (৫ জুলাই) প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসিক দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। দেশের ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১ জন পথচারী এবং ৫৭ জন চালক ও পরিবহন-সহকারী নিহত হয়েছেন।

যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের পর সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে থ্রি-হুইলার দুর্ঘটনায়। এসব দুর্ঘটনায় ১১২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির দুর্ঘটনায় ৩৭ জন, বাস দুর্ঘটনায় ২৭ জন এবং প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

সড়কের ধরন অনুযায়ী ১৫১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৫৭টি শহরের সড়কে। অর্থাৎ, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে।

দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২০৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪৪ শতাংশ। এছাড়া ১০৯টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৯৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা এবং ৫৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে সামনে থাকা যানবাহনের পেছনে ধাক্কা লাগার কারণে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১১৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১৮ জন। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে নিহত হয়েছেন ১৬ জন।

সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি জুন মাসে ৯টি নৌ দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ২১টি রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৭ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, অতিরিক্ত গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক অসুস্থতা, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও ন্যায্য বেতনের অভাব, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।

দুর্ঘটনা কমাতে সংগঠনটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলকে আরও কার্যকর করা, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ জোরদার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং মহাসড়কে নিরাপদ অবকাঠামো গড়ে তোলাসহ ১২ দফা সুপারিশ করেছে।