ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৩:৪০ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ঘোষিত হলো ত্রয়োদশ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট

জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ঘোষিত হলো ত্রয়োদশ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হলো, এবং দেশজুড়ে রাজনৈতিক দল, ভোটার ও সাধারণ মানুষ জাতীয় নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে প্রবেশ করলো।

সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে একযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জাতির উদ্দেশ্যে এই ভাষণ সম্প্রচার করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিইসি তার ভাষণে নির্বাচনের তারিখ, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন, যাচাই-বাছাইয়ের সময়সূচি এবং প্রতীক বরাদ্দের দিনক্ষণ বিস্তারিতভাবে ঘোষণা করেছেন। এই তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

চূড়ান্ত সময়সূচি

সিইসি তার ভাষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেছেন:

ভোট গ্রহণের তারিখ: আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে, অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এই দিনটি দেশের প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের জন্য তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের দিন।

মনোনয়ন থেকে প্রচারণা

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এরপরই শুরু হবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কঠোর প্রক্রিয়া, যা একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের পর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। প্রতীক বরাদ্দের পরই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারবেন। এই সময় থেকে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের কাছে যেতে পারবেন।

আইনশৃঙ্খলা ও প্রস্তুতি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আরও জানিয়েছে যে, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কমিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে ইসি।

ইতিমধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ও ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ঘোষিত তফসিলের আলোকে প্রায় ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি ভোটার যাতে তাদের ভোটাধিকার সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে।

রাজনৈতিক তৎপরতা

তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৎপরতা বহুগুণ বেড়েছে। মাঠের রাজনীতিতে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। দেশের বিভিন্ন আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, এনসিপিসহ ইসির নিবন্ধিত দলগুলো পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের মাধ্যমে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির জানান দিচ্ছে।