প্রকাশিত: ২০ নভেম্বার ২০২৫, ০৮:২৮ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

চুক্তি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে আদানি গ্রুপের সালিশি কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত

চুক্তি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে আদানি গ্রুপের সালিশি কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত

ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে চলমান তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে সালিশি কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি উর্মি রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ আসে।

এই চুক্তি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনে বাতিলের দাবিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আবদুল কাইয়ুম একটি রিট দায়ের করেন। তিনি গত বছরের ১৯ নভেম্বর পিডিবি চেয়ারম্যান ও জ্বালানি সচিবকে আইনগত নোটিশ পাঠিয়ে তিন দিনের মধ্যে আদানি চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা বাতিলের আহ্বান জানান।

আদালতের আদেশের পর ব্যারিস্টার কাইয়ুম সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগেই যদি আদানি গ্রুপ তাদের পাওনা আদায়ে সিঙ্গাপুরে সালিশি শুরু করে, তাহলে তদন্তের প্রভাব কমে যাবে। তাই সালিশি প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। রিটে তিনি চুক্তির বিভিন্ন অনিয়ম ও অস্পষ্টতারও উল্লেখ করেন।

গত বছরের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্টের আরেক বেঞ্চ আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও আইন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়, যাতে আদানি–বঙ্গবন্ধু পাওয়ার প্রকল্পের চুক্তিগত সব দিক খতিয়ে দেখা যায়। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ তখন রুলসহ তিন দফা নির্দেশনা জারি করে।

এর আগে ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর পিডিবি ও আদানি লিমিটেডের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ব্যারিস্টার কাইয়ুম ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর রিট করেন। তার আবেদনে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ ভারতের অন্যান্য উৎস থেকে অনেক কম দামে বিদ্যুৎ আমদানি করে—রাষ্ট্রীয় উৎস থেকে ইউনিটপ্রতি প্রায় ৫.৫ টাকা, বেসরকারি উৎস থেকে ৮.৫০ টাকা, নেপাল থেকে আনলে মোট খরচ প্রায় ৮ টাকা; কিন্তু আদানি গ্রুপের সরবরাহ করা বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১৪ টাকারও বেশি। তিনি দাবি করেন, আদানি চুক্তি করার সময় দর-কষাকষি স্বচ্ছভাবে হয়নি।