গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের আইনি সুরক্ষা এবং উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের পথ সুগম করতে নতুন সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। মঙ্গলবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৬ সংক্রান্ত এই গেজেট প্রকাশ করা হয়। বুধবার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এই সংশোধনীর ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্ত্রী ও সন্তানদের আইনি জটিলতা নিরসনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
নতুন আইন অনুযায়ী, দ্য এভিডিয়েন্স অ্যাক্ট ১৮৭২-এর ১০৮ ধারায় সাধারণত সাত বছর নিখোঁজ থাকার বিধান থাকলেও, গুম হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তা কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি অন্তত পাঁচ বছর গুম থাকলে এবং জীবিত ফিরে না আসলে, ট্রাইব্যুনাল তার সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনযোগ্য বলে ঘোষণা করার বিশেষ ক্ষমতা লাভ করেছে। এ ছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা নির্ভরশীল সদস্যদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে এখন থেকে কমিশনের কোনো পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না।
অধ্যাদেশের ১৩ ধারার পরিবর্তন করে ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানির জন্য পাবলিক প্রসিকিউটর বা পিপি নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের সুপারিশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পিপি নিয়োগ দেওয়া হবে, তবে জরুরি প্রয়োজনে সরকার সরাসরিও নিয়োগ দিতে পারবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী চাইলে নিজের পছন্দমতো ব্যক্তিগত আইনজীবীও নিয়োগ করতে পারবেন। পরিবারের সুরক্ষায় ট্রাইব্যুনাল সরাসরি তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন তলব করার ক্ষমতাও সংরক্ষণ করবে।
এই আইনের আওতায় গুম হওয়া ব্যক্তির সংজ্ঞাও স্পষ্ট করা হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে অথবা ট্রাইব্যুনালের মামলার মাধ্যমে যারা গুম হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন, তারাই এই বিশেষ সুবিধা পাবেন। তবে শর্ত থাকে যে, ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত আদেশের আগে তারা যদি জীবিত ফিরে না আসেন, তবেই কেবল এই উত্তরাধিকার আইন কার্যকর হবে। রাষ্ট্রীয় এই উদ্যোগটি নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের মানবিক ও আইনি লড়াইকে স্বীকৃতি দিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।