আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের বহুল প্রতিক্ষীত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ২২ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে ভোটের লড়াই কেবল রাজপথ বা জনসভায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ডিজিটাল দুনিয়ায়, বিশেষ করে সার্চ ইঞ্জিন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভোটারদের কৌতূহল ও তথ্যের অনুসন্ধানে এখন সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে গুগল।
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা কোন বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী, তা নির্ণয়কারী সূচক 'গুগল ট্রেন্ডস' বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণার গত সাত দিনে (২৯ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি) দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনুসন্ধানের দৌড়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি নেটিজেনদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) ক্ষেত্রে এই আগ্রহ বা 'ইন্টারেস্ট রেট' কিছুটা নিম্নমুখী।
গুগল ট্রেন্ডসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে অনুসন্ধানের শীর্ষে রয়েছে বিএনপি। দলটির অ্যাভারেজ ইন্টারেস্ট রেট ৮৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৮৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ব্যবহারকারীরা মূলত 'বিএনপি', 'বিএনপি বাংলাদেশ', 'নির্বাচন' ও 'বিএনপি জোট'—এর মতো কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে তথ্য খুঁজছেন। সার্চ তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গত এক সপ্তাহে দলটির ইন্টারেস্ট রেট ৫৮ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ৬৮ শতাংশে পৌঁছেছে। 'জামায়াত', 'jamaat islami' বা 'জামায়াতের' মতো শব্দগুলো লিখে গুগলে নিয়মিত সার্চ করছেন সাধারণ মানুষ।
তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাকা নতুন রাজনৈতিক শক্তি ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি বা এনসিপি-কে নিয়ে মানুষের আগ্রহ গত সপ্তাহের ১৪ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে 'ncp bangladesh' বা 'ncp party' লিখে অনুসন্ধানের হার এখনও লক্ষণীয়। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইন্টারেস্ট রেট ৫ শতাংশ থেকে কমে ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা তাদের এই তালিকার চতুর্থ অবস্থানে রেখেছে।
কেবল সার্চ ইঞ্জিন নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারী বা ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকেও দলগুলোর মধ্যে বড় ব্যবধান পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বর্তমানে ৪.৭৩ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর পেজে এই সংখ্যা ৩ মিলিয়ন। এনসিপি ১.৪ মিলিয়ন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১.৬ মিলিয়ন ফলোয়ার নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। এছাড়া গণ অধিকার পরিষদের অফিশিয়াল পেজে প্রায় ১ লাখ ফলোয়ার রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গুগল ট্রেন্ডসের এই পরিসংখ্যান কেবল ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজার হার নয়, বরং এটি জনমনে বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও প্রভাবের একটি ডিজিটাল প্রতিচ্ছবি। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা, যারা ইন্টারনেটে বেশি সক্রিয়, তারা কোনো দলের ইশতেহার, নেতৃত্ব বা সমসাময়িক অবস্থান বুঝতে গুগলের সাহায্য নিচ্ছেন। বিএনপি ও জামায়াতের মতো পুরোনো দলগুলোর সার্চ রেট বৃদ্ধি পাওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়ে এসে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এই দলগুলোর কৌশল নিয়ে জানার আগ্রহ তীব্রতর হচ্ছে। অন্যদিকে, এনসিপির মতো নতুন দলগুলোর ক্ষেত্রে প্রাথমিক কৌতূহল কিছুটা স্তিমিত হয়ে এখন তা স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছানোর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে, গুগল সার্চের হার বা ফেসবুক ফলোয়ার সংখ্যা সবসময় সরাসরি ভোটের বাক্সে প্রতিফলন ঘটায় না। অনেক সময় নেতিবাচক কারণেও কোনো দল নিয়ে অনুসন্ধান বাড়তে পারে। তবুও, আধুনিক নির্বাচনী রাজনীতিতে এই ডিজিটাল ডেটা বা তথ্য ভাণ্ডার জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করে, যা দলগুলোকে তাদের প্রচারণার কৌশল পুনর্মূল্যায়নে সহায়তা করতে পারে।