ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫০ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

গণমাধ্যমকর্মীদের তুলে নেওয়ার ঘটনায় টিআইবির উদ্বেগ

গণমাধ্যমকর্মীদের তুলে নেওয়ার ঘটনায় টিআইবির উদ্বেগ

রাজধানীর একটি সংবাদমাধ্যম কার্যালয় থেকে গভীর রাতে ২১ জন কর্মীকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই ঘটনাকে মুক্ত সাংবাদিকতার পথে একটি ‘ভীতিকর দৃষ্টান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। রবিবার ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘গণভোট ও প্রাক-নির্বাচন পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এভাবে তুলে নেওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং এটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য এক অশনিসংকেত।

ড. ইফতেখারুজ্জামান গত রাতে ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এর কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা আইনিভাবে মোকাবিলা করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় কর্মীদের আটক করে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। যদিও পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এই ঘটনা পুরো গণমাধ্যম জগতের জন্য একটি সহিংসতার বার্তা বহন করে। এর আগে ‘প্রথম আলো’ ও ‘ডেইলি স্টার’ কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বারবার এসব ঘটনা ঘটলেও বিচারহীনতার সংস্কৃতি গণমাধ্যমকে আরও কোণঠাসা করে ফেলছে।

সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে টিআইবি প্রধান বলেন, মাত্র দুদিন আগে যখন সেনাবাহিনী গণমাধ্যমকে ‘জাতির দর্পণ’ আখ্যা দিয়ে নির্ভীক সাংবাদিকতার আশ্বাস দিয়েছিল, তখন এমন ঘটনা সেনাবাহিনীর ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ নিয়ে সংশয় তৈরি করে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া যদি কোনো সেনা কর্মকর্তা এমন কাজ করে থাকেন, তবে তার যথাযথ তদন্ত হওয়া জরুরি। কথার সঙ্গে কাজের এমন অমিল দেশের মানুষের মনে আস্থার সংকট তৈরি করছে। তিনি অবিলম্বে সংবাদমাধ্যমের ওপর সব ধরনের চাপ প্রয়োগ বন্ধ করে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন সামনে রেখে গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির ঘটনা নতুন কোনো বিষয় নয়, তবে এর ধরন এখন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। রাতের আঁধারে একযোগে ২১ জন সংবাদকর্মীকে তুলে নেওয়া কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি তথ্যের অবাধ প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করার একটি কৌশল হতে পারে। বিশেষ করে যখন প্রভাবশালী কোনো বাহিনীর নাম এই প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়ে, তখন তা নাগরিক অধিকারের সুরক্ষায় একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দেয়। টিআইবির এই প্রতিবাদ প্রমাণ করে যে, বর্তমানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভগুলোর মধ্যে জবাবদিহিতার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। যদি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে সামনের দিনগুলোতে দেশে ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বা আত্ম-নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা বেড়ে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন ও ভঙ্গুর গণতন্ত্রেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে।