প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১২ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

গণভোটের পক্ষে প্রচারের নৈতিক অধিকার সরকারের রয়েছে: আলী রীয়াজ

গণভোটের পক্ষে প্রচারের নৈতিক অধিকার সরকারের রয়েছে: আলী রীয়াজ

জুলাই জাতীয় সনদ কেবল কোনো সাধারণ দলিল নয়, এটি দীর্ঘ ১৬ বছরের গুম হওয়া মানুষের আর্তনাদ এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত একটি পথরেখা বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। শনিবার রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সনদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটের পক্ষে প্রচার চালানোর পূর্ণ নৈতিক ও আইনি অধিকার রাখে।

অধ্যাপক রীয়াজ সরকারের প্রচারণার আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের গণভোটের পক্ষে কাজ করতে সংবিধান বা বিদ্যমান আইনে কোনো বাধা নেই। আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে হওয়া ৪৮টি গণভোটের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারগুলো সরাসরি প্রচার চালিয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই সরকার কোনো সাধারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, বরং এটি ১৪০০ শহীদের আত্মদানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিশেষ সরকার।

গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরেও দেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে যারা কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন। রাষ্ট্র সংস্কারের মতো মৌলিক বিষয়ে তাদের সরাসরি সম্মতি নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন কোনো আদালত এই সংস্কারের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে, সেজন্য জনগণের কাছ থেকে সরাসরি ম্যান্ডেট সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই গণভোটের মাধ্যমে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে সংবিধান সংশোধনের সুনির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী সংসদ প্রথম ১৮০ দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। এই সময়ের মধ্যে তারা জুলাই সনদের প্রস্তাবনাগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করবে। প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, এক ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকা, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ও দুদক গঠন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। এ ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংসদ সদস্যদের ৭০ অনুচ্ছেদের জটিলতা মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ তৈরির প্রস্তাবও সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বক্তব্যের শুরুতে অধ্যাপক আলী রীয়াজ জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ সোহেল রানাসহ সকল বীরদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।