এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার। সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।
ড. আবরার বলেন, “অনেক শিক্ষক আছেন যারা ক্লাস না নিয়ে ব্যক্তিগত বা অন্য কাজে সময় ব্যয় করেন। অথচ সরকার এমপিও কার্যক্রমের আওতায় তাদের বেতন প্রদান করছে। তাই এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে হবে এবং তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আইনে ইতিমধ্যে কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে, কিন্তু সেগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি। এবার আমরা আইনের কাঠামোর মধ্যেই বড় পরিসরে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করব। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাটিয়ে উঠতে হবে।”
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, যেসব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলাফল সন্তোষজনক নয়—বিশেষ করে যেখানে পাসের হার ১০ শতাংশের নিচে বা শূন্য—সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের কারণ খুঁজে দেখা হবে। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল ধরে রেখেছে, তাদের প্রধানদেরও ডেকে প্রশংসা করা হবে এবং ভালো চর্চা ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
ড. আবরার বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে ফলাফলের মানোন্নয়ন সম্ভব—আমরা এর প্রমাণ পেয়েছি। অনেক প্রতিষ্ঠান যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়াই এমপিওভুক্ত হয়েছে, যেগুলো বর্তমানে নানা সংকটে ভুগছে। সেই প্রেক্ষিতে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলো একীভূত (মার্জ) করার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “অনেক প্রতিষ্ঠানে ১০০-১৫০ শিক্ষার্থী ভর্তি থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ১০-১২ জন, অথচ সেখানে ১৫-২০ জন শিক্ষক বেতন পান। এই ধরনের অপচয় রোধে সরকার বিশেষ নজর দেবে।”
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ওপর জবাবদিহিতা জোরদার হলে শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নত হবে এবং অকার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে সংস্কার বা পুনর্গঠনের পথে এগোবে।