ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

এলডিসি উত্তরণে আরও তিন বছর সময় চায় বাংলাদেশ

এলডিসি উত্তরণে আরও তিন বছর সময় চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে টেকসই ও নির্বিঘ্ন উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতির জন্য আরও তিন বছর সময় চেয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন এবং সরকারের সংস্কার কর্মসূচি এগিয়ে নিতে জাতিসংঘের আরও জোরালো সহযোগিতা কামনা করেছে দেশটি।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ আহ্বান জানান। তিনি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল লি জুনহয়া, জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএন-এসক্যাপ) নির্বাহী সচিব আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা এবং ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ব্যুরোর আঞ্চলিক পরিচালক ও সহকারী মহাসচিব কান্নি উইগ্নারাজার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

লি জুনহয়ার সঙ্গে বৈঠকে ড. তিতুমীর বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, উত্তরণ-পরবর্তী কৌশল কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই সময় বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।

জবাবে লি জুনহয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগ (ইউএন ডেসা) অব্যাহত সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন। তিনি বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে সফল ও টেকসই করতে দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ইউএন-এসক্যাপের নির্বাহী সচিব আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানার সঙ্গে বৈঠকে ড. তিতুমীর বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জনগণের দেওয়া গণরায় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জবাবদিহিমূলক সুশাসন এবং জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তিনি সরকারের '৩ আর' বা 'রিকভারি, রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন' কৌশলের কথা তুলে ধরে বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এই কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আর্মিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ, আঞ্চলিক সংযোগ সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে ইউএন-এসক্যাপের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সার্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর সরকারি উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে, ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ব্যুরোর আঞ্চলিক পরিচালক কান্নি উইগ্নারাজার সঙ্গে বৈঠকে ড. তিতুমীর গণতান্ত্রিক সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কান্নি উইগ্নারাজা বাংলাদেশের সংস্কার ও টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচিতে ইউএনডিপির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এলডিসি থেকে উত্তরণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সে লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার এবং প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি জাতিসংঘের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।