ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

ঋণসংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে বৈশ্বিক উদ্যোগ চায় বাংলাদেশ

ঋণসংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে বৈশ্বিক উদ্যোগ চায় বাংলাদেশ

ঋণসংকট মোকাবিলা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক ঋণ-সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর যে রাজস্ব ও ঋণের চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

নিউইয়র্কে ইউনিসেফের সদর দপ্তরে সংস্থাটির মানবিক কার্যক্রম ও সরবরাহ বিভাগের উপনির্বাহী পরিচালক টেড শেইবানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। শনিবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকীও উপস্থিত ছিলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন এবং ঋণের বাড়তি চাপ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর রাজস্ব সক্ষমতাকে সংকুচিত করছে। এ পরিস্থিতিতে ঋণ পুনর্গঠন, ঋণ-ভার লাঘব, ঋণ পরিশোধ স্থগিত এবং ঋণ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তার ভাষ্য, এ ধরনের উদ্যোগ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে শিশু ও নারীর কল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতিকেও ত্বরান্বিত করবে।

তিনি জানান, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের আলোকে নতুন সরকার নারীকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে সর্বজনীন ও জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। সরকারের প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে শিশুর বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, প্রতিবন্ধিতা এবং বার্ধক্য পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী বলেন, শিশুদের জন্য সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ‘এক শিশু, এক কার্ড, এক নম্বর ও এক ওয়ালেট’ কৌশল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং সরকারি সেবাপ্রাপ্তিকে আরও সহজ ও কার্যকর করা হবে।

তিনি শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, আধুনিক শিক্ষাসামগ্রীর ব্যবহার এবং বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নে ইউনিসেফের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা, জাদুঘর পরিদর্শন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমকে শিশুদের সার্বিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইউনিসেফের উপনির্বাহী পরিচালক টেড শেইবান বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানান। সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা সত্ত্বেও শিশু ও নারীসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করে তিনি শিক্ষা, পুষ্টি, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, সামাজিক সুরক্ষা এবং শিশুকেন্দ্রিক তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউনিসেফের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।