ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বার ২০২৫, ০৫:০৩ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ঈশ্বরদীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ: আহত অর্ধশত

ঈশ্বরদীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ: আহত অর্ধশত

পাবনার ঈশ্বরদীতে গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের জগির মোড় এবং চর আলহাজ্ব মোড় এলাকায় সংঘটিত এই সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ, গাড়ি ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলসহ উভয় দলের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় দুদিন আগে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মক্কেল মৃধা এবং স্থানীয় জামায়াত নেতা ইকবাল হোসেনের মধ্যে দলীয় বিষয় নিয়ে হওয়া একটি বাকবিতণ্ডা থেকে।

এই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের নেতৃত্বে দলটির শতাধিক নেতাকর্মী সাহাপুর ইউনিয়নের আলহাজ্ব মোড় এলাকায় যান। এ সময় জগির মোড় নামক স্থানে মক্কেল মৃধা ও তার ছেলে মনিরুল ইসলামকে দেখতে পেয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা হামলা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এর কিছুক্ষণ পর পার্শ্ববর্তী চর আলহাজ্ব মোড় এলাকায় দুই দলের সমর্থকরা আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবর্ষণের পাশাপাশি অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং প্রায় ১০টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম, সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মক্কেল মৃধা, সাহাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আব্দুল আলিম বাঁধন, যুবদল নেতা মিলন এবং রকিবুল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল এ বিষয়ে বলেন, "আমাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম, কিন্তু হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা আমার গাড়ি এবং নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে।"

অন্যদিকে, সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান হামদু মেম্বার জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আজকে জামায়াতের কোনো পূর্ব নির্ধারিত গণসংযোগ ছিল না। গণসংযোগে কেউ কখনো গাড়িভর্তি করে অস্ত্র নিয়ে আসে না। মূলত দুদিন আগের ঘটনার জের ধরেই তালেব মণ্ডল ও তার সমর্থকরা মক্কেল মৃধা ও তার ছেলের ওপর হামলা করেন। তালেব মণ্ডল নিজেই গাড়ি থেকে অস্ত্র বের করে তার কর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছেন।"

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, বিএনপি ও জামায়াতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুলিশ কাজ করছে।