ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১০ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

আসন্ন নির্বাচনে জয়ী দলের সঙ্গেই কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র

আসন্ন নির্বাচনে জয়ী দলের সঙ্গেই কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন জানিয়েছেন যে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে দলই জয়লাভ করুক না কেন, তাদের সাথেই কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার দুপুরে রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মাঝে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে অর্থনীতি, বাণিজ্য, ব্যবসা এবং নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশ একসাথে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

নির্বাচন এবং জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশে পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে সেটি সম্পূর্ণভাবে এ দেশের জনগণের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনে কাকে বেছে নেওয়া হবে সে বিষয়ে অন্য কোনো দেশের কথা বলার অধিকার নেই। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় সব পক্ষের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখে। ক্ষমতাশীন দল হোক বা বিরোধী দল, সবার সাথে কথা বলার একটি দীর্ঘ ইতিহাস তাদের রয়েছে। তবে মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনের পর জনগণের রায় নিয়ে যে সরকার আসবে, তাদের সাথে অংশীদারিত্ব বজায় রাখা। গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে বাংলাদেশে সূচিত পরিবর্তনের ধারাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন বলেন, তিনি বাংলাদেশে সামনে আরও নতুন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছেন।

ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসনের এই বক্তব্য মূলত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিরপেক্ষ থাকার একটি স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, ওয়াশিংটন যে ঢাকার সাথে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী, সেটিই এখানে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তার অবস্থান স্থানীয় জনমনে আস্থা তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। এছাড়া অর্থনীতি ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের সাথে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। ২০২৪ পরবর্তী পরিবর্তনের প্রশংসা করার মাধ্যমে তিনি মূলত বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতিও পরোক্ষ সমর্থন প্রকাশ করেছেন।