ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৩ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট কেনার মহোৎসব চলছে: রিজভী

আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট কেনার মহোৎসব চলছে: রিজভী

নির্বাচনি ময়দানে উত্তাপ ছড়িয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক বিস্ফোরক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং ডিজিটাল লেনদেন মাধ্যম 'বিকাশ'-এর মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।

আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রিজভী সরাসরি প্রশ্ন রেখে বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে যে তাদের জন্য কাজ করলে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানো হবে। এটি কেবল অনৈতিক নয়, বরং নির্বাচনি আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। তিনি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, টাকা দিয়ে ভোট কেনা যদি আচরণবিধির লঙ্ঘন না হয়, তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের সংজ্ঞা কী?

বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ। রিজভী দাবি করেন, কোকোর মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল তৎকালীন ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিক শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের নিষ্ঠুর পরিণতি। তিনি ২০১৫ সালের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন যখন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তার গুলশান কার্যালয়ে বালু ও কাঠের ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। রিজভী বলেন, অবরুদ্ধ অবস্থায় খালেদা জিয়ার চোখে গোলমরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করার মতো পৈশাচিক ঘটনাও ঘটেছিল, যা প্রবাসে চিকিৎসাধীন হৃদরোগী কোকোকে মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল। মায়ের ওপর চালানো সেই নির্যাতনের দৃশ্য সইতে না পেরেই তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।

তৎকালীন পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে রিজভী আরও বলেন, কোকোর মরদেহ যখন দেশে আসে, তখন শোকাতুর বেগম খালেদা জিয়ার পাশে দাঁড়াতে আসা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। তিনি মনে করেন, প্রকৃতির বিচার হিসেবেই ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। শেখ হাসিনার পলায়ন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, যারা জনগণের ওপর জুলুম চালায়, তাদের শেষ পরিণতি এমনই হয়। আয়নাঘর আর রিমান্ডের ভয় দেখিয়েও জনতার উত্তাল ঢেউ আটকানো সম্ভব হয়নি।

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করে এই নেতা বলেন, বিএনপি চায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিক। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে এবং তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই সরকার গঠন করবে—এটাই বিএনপির মূল অঙ্গীকার। তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রশংসা করে বলেন, তারেক রহমান নির্বাচনি আইন ও বিধির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নজিরবিহীন সংযম প্রদর্শন করছেন। বগুড়ায় নিজের পৈত্রিক ভিটা এবং শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করার ইচ্ছা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তিনি তা স্থগিত করেছেন এবং নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর দিন হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছেন।

রিজভী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে তারেক রহমান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও কোনো অশালীন শব্দ ব্যবহার করছেন না, আর অন্যদিকে অন্য দলগুলো আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে জনমত কেনার চেষ্টা করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিকাশে কাদের টাকা পাঠানো হচ্ছে তা গোপন থাকছে না। আইনি জটিলতা ও নির্বাচনি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সবাইকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দোয়া মাহফিলে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।