বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বাড়ছে

করোনায় পিছিয়ে পড়া প্রকল্পের কারণে এবারের বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য ৩৩ হাজার ৫৬৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ হতে পারে। এটা গত বাজেটের চেয়ে ৬ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা বেশি। গত বছরের বরাদ্দ ছিল ২৬ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা ।

এবারে বাজেটে বিদ্যুৎ সঞ্চালন, বিতরণ ব্যবস্থা উন্নতকরণ, গ্যাসের চুরি বন্ধ করা এবং দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধানের আরও বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ জানায়, বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ৩০ হাজার ৭০৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং জ্বালানি খাতে ২ হাজার ৮৬০ কোটি ৭৯ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকবে। এই দুই খাতে মোট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে ১০৩টি। এরমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগে ৭৫টি, আর জ্বালানি বিভাগে ২৮টি।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন জানান, করোনার কারণে আমাদের অনেক প্রকল্পের কাজের গতি কমে গেছে। এসব চলমান প্রকল্পের কাজ এবারের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত আছে। বাজেটে বিদ্যুতের বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস আহরণের ওপরে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর জন্য এবারও আলাদা প্রকল্পে বরাদ্দ প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি বিভাগ। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জন্য বিভিন্ন জোনে প্রিপেইড মিটার স্থাপন, ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পার্বত্য অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব থাকছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) জন্যও আলাদা বরাদ্দ থাকতে পারে। অন্যদিকে ঢাকার দুই কোম্পানি পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) প্রিপেইড মিটার, ভূগর্ভস্থ লাইন নির্মাণের পাশাপাশি বিতরণ ব্যবস্থার জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকতে পারে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এবং নর্দার্ন ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানিও গত বছরের মতো এবারও আলাদা বরাদ্দ পেতে পারে বলে জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ।

সূত্র জানায়, বিদ্যুতের আধুনিক সঞ্চালন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাজেটে নতুন পুরনো মিলিয়ে ৭৫টি প্রকল্প থাকতে পারে। এরমধ্যে বিনিয়োগের মাধ্যমে ৬৬টি প্রকল্প, কারিগরি ৭টি এবং নিজস্ব অর্থায়নে ২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে বাজেটে জ্বালানি খাতে ২ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা দিতে পারে অর্থ বিভাগ। গ্যাস উন্নয়ন তহবিল (জিডিএফ) থেকে ১৫৩ কোটি টাকা এবং নিজস্ব খাত থেকে খরচ করা হবে ৬৭৯ কোটি টাকা। জ্বালানি খাতে প্রকল্প প্রস্তাবের সংখ্যা ধরা হয়েছে ২৮টি।

এর বাইরে পায়রা, মহেশখালীর মাতারবাড়িতে মেগা পাওয়ার হাব নির্মাণের জন্য যে বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে সেগুলাও চলমান এবারের বাজেটেও থাকবে। এরমধ্যে পায়রা ১৩২০, মাতারবাড়ি ১২০০ এবং রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ চলছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ খাতের উৎপাদনের তুলনায় এখনও খারাপ অবস্থা বিতরণের। এখনও গ্রামের দিকে লোডশেডিং হয়। একটু ঝড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এখন আমার মানসম্মত বিদ্যুতের দিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে এখন প্রায়ই বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মারা যাবার কথা শোনা যায়। আমাদের এমন উন্নত প্রযুক্তি আনতে হবে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। তিনি বলেন, সঞ্চালনের ক্ষেত্রে সমান মনোযোগ দিতে হবে। গত কয়েক বছরে বেশ কিছু গ্রিডে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। অনেক ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ পায়নি গ্রাহক। এগুলো আরও উন্নত করা, সংস্কার করাও জরুরি। বাজেটে এই বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া দরকার। একইভাবে জ্বালানি খাতে সবার আগে গ্যাস চুরি বন্ধ করতে হবে। এজন্য যা যা করা প্রয়োজন সবই করা দরকার, যাতে এটি শূন্য না হলেও ১ ভাগে নামিয়ে আনা যায়। আমরা অনেক দাম দিয়ে এলএনজি কিনছি, সেই গ্যাস এভাবে চুরি যেতে দিতে পারি না। একইভাবে এই দামি গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হলে নিজেদের গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়াতে হবে। এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানো খুবই জরুরি বলে তিনি মনে করেন।


Comment As:

Comment (0)