লকডাউনের মধ্যেই ঢাকায় ১৮ খুন ও ৩৭ ধর্ষণ

লকডাউন ও বিধিনিষেধের মধ্যেই গত এক মাসে রাজধানীতে ১৮টি খুন ও ৩৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। লকডাউনে রাজধানীজুড়ে পুলিশের তৎপরতা ও চেকপোস্টের মধ্যেই হত্যাসহ এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনার বেশিরভাগেরই রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

গত ৫ এপ্রিল ভোর থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রথম দফায় এক সপ্তাহের লকডাউন শুরু হয়। এর আগে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে চলাচলের নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। এপ্রিল মাসজুড়েই ছিল কড়াকড়ি। এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হয়। পরে ২১ থেকে ২৮ এপ্রিল, ২৯ থেকে ৫ মে এবং ৬ মে থেকে ১৬ মে লকডাউন বাড়ানো হয়। এ সময় রাজধানীতে ছিনতাই, হত্যা ও ধর্ষণসহ বড় ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্যানুযায়ী, গত এপ্রিলে রাজধানীতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে একটি, ছিনতাই ১৩টি, খুন ১৮টি, দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে তিনটি, ধর্ষণ ৩৭টি, নারী নির্যাতন ১০২টি, শিশু নির্যাতন ৩৮টি, মোট নারী ও শিশু নির্যাতন ১৭৭টি, অপহরণ দুটি, সিঁধেল চুরি ৫০টি, গাড়ি চুরি ৩২টি, তার চুরি একটি, অন্যান্য চুরির ৬২টি ঘটনা ঘটেছে।

গত ১৫ এপ্রিল রাতে খিলগাঁও মেরাদিয়ার মধ্যপাড়া এলাকায় স্থানীয় মাদক কারবারিরা আসিফ (১৫) নামে এক পুলিশ সোর্সকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। নিহত আসিফ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রাধানগর গ্রামের মো. হোসেন মিয়ার ছেলে। মেরাদিয়া এলাকায় স্ত্রী মুন্নিকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম।

খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুকুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই আসামিকে আমরা ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছি। তবে আরও দুজন পলাতক। তাদের গ্রেফতার করতে পারলেই দ্রুত এই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।’

এসব হত্যাকাণ্ড কখনও পারিবারিক শত্রুতা ও কলহ, ছিনতাইকারী, বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে, আবার কখনও দেনা পাওনার মতো সামান্য কারণেই ঘটছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। সামান্য কিছু নিয়েই হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটছে। করোনার মধ্যে দেনা-পাওনা নিয়েও বিবাদ সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য কিছু ঘটনা ঘটছে।’

তিনি বলেন, ‘এছাড়া কয়েকটি কিশোর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে টিকটকের কারণে। তাই নির্দিষ্ট করে কারণ বলা যাবে না। তবে লকডাউনের কারণে রাস্তা ফাঁকা পেয়ে অপরাধীরা ছিনতাই করেছে। তাদের কাউকে কাউকে আমরা গ্রেফতারও করেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে লকডাউনের মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে বলেও দাবি করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এপ্রিলে যৌতুকের কারণে নির্যাতন করে ২৬ জন নারীকে খুন করা হয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রবিবার (১০ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ হিসাব দিয়েছে। দেশের ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে পরিষদ আরও জানায়, এপ্রিল মাসে মোট ৪১৪ জন নারী বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৮০টি। এরমধ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১২ জনকে। এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১৩ জনকে।


Comment As:

Comment (0)