আমার কথা

সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী, ব্যবসায়ী, আওয়ামী লীগের সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক সৈয়দ আবুল হোসেন তার কর্মব্যস্ত জীবনের বাইরে লেখালেখি করেন নিয়মিত। এই পর্যন্ত তার বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘আমার কথা’ নামের একটি বই। বাংলা একাডেমীর একুশে বই মেলায় ছিল। বইটি ধারাবাকিভাবে এখন সময়-তে প্রকাশ করা হচ্ছে। এই বইয়ে তিনি নিজের চিন্তা, চেতনা, স্বভাব, অনুভূতি, কর্মকান্ড, মূল্যবোধ, নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে লিখেছেন। লিখেছেন এই জীবনে তাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে যে সব কথা নানা জন জেনে না জেনে বলেছেন। সেই সম্পর্কে তার নিজের কথা। এছাড়াও বইয়ের ৪৮ টি অধ্যায়ে তিনি তুলে ধরেছেন তার জীবনের না বলা অনেক কথা। এই বইটি পড়লে তার সম্পর্কে মানুষ অনেক তথ্য জানতে পারবে ও তাকে যারা পুরোপুরি চিনেন না তাদের চিনতেও সুবিধা হবে। তার এই বইটি ‘এখন সময়’ ধারাবাহিকভাবে আজ থেকে প্রকাশিত হলো। প্রকাশিত হচ্ছে ‘আমার কথা’ বইয়ের সকল অধ্যায়। পড়তে চোখ রাখুন ‘এখন সময়’এ।

সৈয়দ আবুল হোসেন এই বইটি এখন সময় প্রকাশ হওয়া উপলক্ষ্যে জানান, তিনি এতে আনন্দিত যে তার কথাগুলো তিনি বাংলাদেশের পাশাপাশি প্রবাসীদের কাছেও তুলে ধরতে পারছেন। তিনি বলেন, আশা করি বইটি যারা আগ্রহ নিয়ে পড়বেন তাদের ভাল লাগবে। যারা অনেক কথা জানেন না তাদের জানা হবে। সেই সঙ্গে মানুষের কাছে অনেক ভুল তথ্য আছে সেগুলোরও সংশোধন হবে। তিনি বলেন, আমি কাউকে কষ্ট দিতে চাইনি। অনেক সতর্কতার সঙ্গে লিখেছি। এরপরও যদি কেউ কষ্ট পান তাহলে সেটা আমার অনিচ্ছাকৃত।

১. আমার অনুভব

সৈয়দ আবুল হোসেন: শিশুকাল থেকে আমি ছিলাম শান্তশিষ্ট, কিন্তু আত্মবিশ্বাসী এবং হাসিখুশি। মনের দিক থেকেও সবসময় প্রাণবন্ত, বন্ধুবৎসল ও অমায়িক ছিলাম। শারীরিক দুরন্তপনা আমার কাছে পাশব মনে হতো। তার চেয়ে পাশব মনে হতো মন্দকথা। ‘সাম ওয়ার্ডস হার্ট মোর দ্যান সোর্ডস’- এটি আমার অন্তরে সর্বক্ষণ বিরাজ করত। তাই কাউকে কিছু বলার সময় সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের চেষ্টা করতাম।

যে কাজ অন্যকে আঘাত দেয়, যে কথা কাউকে মর্মাহত করে, যে আচরণ মানবিক বিকাশের পক্ষে ক্ষতিকর তা কখনও মেনে নিতে পারতাম না। এখনও পারি না। প্রত্যেকের কষ্টকে আমার নিজের কষ্টের চেয়েও ভয়ঙ্কর মনে হয়। তাই প্রতিটি কাজ করার আগে ভাবতাম। সবার সঙ্গে এমন ব্যবহার করতাম যাতে কেউ কষ্ট না পায়। আমার এ আচরণের জন্য উচ্ছ্বসিত প্রশংসা পেয়েছি। আবার অনেকের কাছে আমাকে ভীতু হিসাবেও প্রতিভাত করেছে। তবুও আমি আমার মননশীলতায় একাগ্র থেকেছি।

পৃথিবীর সব আকর্ষণীয় জিনিসগুলো নরম, ভালবাসা নরম, স্নেহ-মমতাও নরম। পৃথিবীর মনোহর বস্তুগুলোর কোনোটাতে শক্তি প্রয়োগের আস্ফালন নেই। নমনীয়তা সুন্দর, এটাই সর্বজনীন। সর্বজনীনতার চেয়ে অধিক আনন্দের এবং নিপুণ সাফল্যের আর কিছু নেই।

ছোটবেলার কথা এখনও মনে পড়ে। পিতামাতা আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। তাঁদের ধারণা আমি নিরীহ, বোকা এবং কখনও লড়তে পারব না; প্রতিষ্ঠিত হতে পারব না- নিষ্ঠুর পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন করে। আসলেই আমি নিরীহ ছিলাম। শিশুবেলা থেকে অন্যের কষ্ট মোটেও সহ্য করতে পারতাম না।

বাবা আফসোস করতেন- এত কোমল মনের ছেলে কি কখনও সংসারজীবনে টিকে থাকতে পারবে?

অনেকে আমাকে শক্ত হওয়ার উপদেশ দিতেন। শক্ত হওয়া কী আমি বুঝতাম না। নমনীয়তার মাঝে জীবনের সার্থকতা খুঁজতাম, আমি এতে আনন্দ পেতাম। পৃথিবীর সব আকর্ষণীয় জিনিসগুলো নরম, ভালবাসা নরম, স্নে