২১ বল আর ৩ রানে শেষ ৫ উইকেট!

নিজেদের চিরচেনা মাঠ। উইকেটে বল ঘুরবে, তা আগে থেকেই জানা ছিল ব্যাটসম্যানদের। তারপরও এমন ব্যাটিং!

ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশ শেষ ৫ উইকেট হারাল ৩ রানে। সেটাও মাত্র ২১ বলের মধ্যে! তাতেই বাংলাশের ইনিংস গুটিয়ে ১১০ রানে। লঙ্কানদের করা ২২২ রানের জবাবে পিছিয়ে টাইগাররা ১১২ রানে।

ব্যাটিং ধসের শুরুটা মাহমুদউল্লাহকে দিয়ে। আকিলা ধনাঞ্জয়ার হাওয়ায় ভাসানো বল ড্রাইভ করতে গিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। বিশাল টার্নে অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে বল আঘাত করে মিডল স্টাম্পে। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে বল গিয়ে মাহমুদউল্লাহ বোল্ড ১৭ রানে।
তার ব্যাট থেকে আসা দ্বিতীয় চারে একশ স্পর্শ করে বাংলাদেশ। তখন তার রান ছিল ১১। রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে স্লিপে জীবন পেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তবুও নিজের ইনিংসটি বড় করতে পারেননি।

অধিনায়ক ফিরে যাওয়ার দুই বল পর আউট সাব্বির রহমান। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ হয় তার। চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ ইনিংসে ৫৩ বলে মোসাদ্দেকের করা ৮ রান পছন্দ হয়নি টিম ম্যানেজমেন্টের। তাই তাকে একাদশের বাইরে রেখে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষিদ্ধ সাব্বিরকে নিয়ে আসা হয়। সেই সাব্বির মিডল স্টাম্পের বল তেড়ে খেলতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন শূন্য রানে।
দিলরুয়ান পেরেরার করা পরের ওভারে বাংলাদেশ হারায়নি কোনো উইকেট। দীর্ঘদিন পর নামা আব্দুর রাজ্জাক ধনাঞ্জয়ার তৃতীয় শিকারে পরিণত হন ফিরতি ক্যাচ দিয়ে। ৬ বল পর রান আউট তাইজুল ইসলাম। পেরেরা বলে ডিফেন্স করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন তাইজুল। শর্ট লেগ থেকে বল ধরে দ্রুতই স্টাম্প ভাঙেন কুশল মেন্ডিস। পরের বলে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ মুস্তাফিজুর। তাতেই শেষ বাংলাদেশের ইনিংস। মেহেদী হাসান মিরাজ অপরাজিত থাকেন ৩৮ রানে।

মিরাজের সঙ্গে দিন শুরু করেছিলেন লিটন কুমার দাস। ২৪ রানে গতকাল দিন শেষ করা লিটন আজ শুরু থেকেই ছিলেন নড়বড়ে। অফ স্টাম্পের বাইরে বারবার পরাস্ত হচ্ছিলেন। স্পিনারদের বিপক্ষেও খেলতে পারছিলেন না ঠিকমতো। নামের পাশে আজ ১ রান যোগ করেই বোল্ড হন অফ স্টাম্পের বাইরের বল ভেতরে এনে। এরপর মাহমুদউল্লাহ ও মিরাজ ৩৪ রান যোগ করেন। পরের গল্পটা দুঃস্বপ্নের।
এর আগে গতকাল প্রথম দিনে ৪৫ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল ৪ রানে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে লাকমালের শততম উইকেটে পরিণত হন। মুমিনুল হক রান আউটে নিজের উইকেট আত্মহুতি দেন। অফ স্টাম্পের ভেতরে ঢোকা বল ছেড়ে দিয়ে মুশফিক বোল্ড হন ১ রানে।

চতুর্থ উইকেটে ইমরুল-লিটনের ৩৩ রানের জুটি পায় প্রতিরোধ। কিন্তু দিনের খেলা শেষ হওয়ার ১৩ বল আগে আউট ৫৫ বলে ১৯ রান করা ইমরুল। প্রথম দিনের বাকিটা সময় কোনোমতে পার করে দেন লিটন-মিরাজ।

শ্রীলঙ্কার হয়ে বল হাতে ৩টি করে উইকেট নেন পেসার সুরঙ্গা লাকমাল ও আকিলা ধনাঞ্জয়া। ২টি উইকেট নেন দিলরুয়ান পেরেরা। ১২ ওভার বোলিং করে উইকেটশূন্য ছিলেন রঙ্গনা হেরাথ।

১১০ রানে অলআউট হয়ে ঘরের মাঠে লজ্জার রেকর্ডও গড়েছে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে এটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বনিম্ন রান।